ISIS & ISIL-এ নারীর অংশ গ্রহন বাড়ছে-♥-সুবহানাল্লাহ

ইসলামিক স্টেটে নারী যোদ্ধাদের

সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে

| প্রকাশের সময় : ২০১৫-০৬-০৬

ইনকিলাব ডেস্ক :

শামস তার প্রকৃত নাম নয়। তিনি নিজের

পরিচয় দেন ‘জান্নাতের

পাখি’ বলে। ৫৫০ জনের মত পশ্চিমা

নারী বাড়িঘর ও পরিবার ত্যাগ করে

ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিয়েছেন

বলে ধারণা করা হয়। তিনি তাদের একজন।

তিনি আইএসের একটি ব্লগ পরিচালনা

করেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ব্লগটি

আইএসের যোদ্ধা সংগ্রহে এক প্রভাবশালী

ও বিপজ্জনক মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

লন্ডনে ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক

ডায়লগ (আইএসডি)-এর গবেষকরা আইএসে

নারী যোদ্ধাদের নজিরবিহীন সংখ্যা

বৃদ্ধির ব্যাপারে অনুসন্ধিৎসা প্রকাশ করে

টুইটার, ফেসবুক, টাম্বলর ও ব্লগগুলোসহ

অনলাইন প্ল্যাটফরমে তাদের ১শ’রও

বেশী জনের গতিবিধি অনুসরণ করে

চলেছেন। আইএসের ডাটাবেজ যা কিনা এ

ধরনের বৃহত্তম ডাটাবেজ, আইএসের

মহিলাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যাপারে

জানার এক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাদের

আশা যে আইএস এ মহিলাদের যেভাবে

ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করে দেখে এ

সংগঠন কীভাবে কাজ করে ও কীভাবে

তাদের মোকাবেলা করা যাবে, সে বিষয়

তারা আরো ভালো করে বুঝতে পারবেন।

আইএসডি-র সিনিয়র গবেষক এরিন সল্টম্যান

বলেন, এটা প্রকৃতপক্ষে গৎবাধা বিষয়কেই

তুলে ধরে। তাদের বয়স ১৩ থেকে ৪০ এবং

বিভিন্ন শিক্ষা, পেশা ও পরিবারের সদস্য

তারা। বিষয়টি ভীষণ জটিল। গ্রুপের নতুন

রিপোর্টে সিএনএনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে

দেখা যায়, বিভিন্ন বয়স ও পেশার নারীরা

আইএসে বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা পালন

করছে। এখন প্রশ্ন, আইএসের নারী সদস্যরা

কারা? অনলাইনে ব্যাপক উপস্থিতি

সত্ত্বেও শামস-এর আসল পরিচয় সম্পর্কে

তথ্য অপর্যাপ্ত। তার পোস্টগুলো থেকে

পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাঁর বয়স ২৭। তিনি

আদতে মালয়েশীয়, কিন্তু ভারতীয় ও

পাকিস্তানি ঐতিহ্যও তাঁর রয়েছে। একজন

প্রশিক্ষিত চিকিৎসক শামস তার অতীতকে

ফেলে আইএসে যোগ দেন। সেখানে তিনি

নারী ও শিশুদের জন্য একটি মৌলিক

স্বাস্থ্য ক্লিনিক চালান, মাতৃগর্ভস্থ

শিশুদের পরীক্ষা করেন,

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবস্থাপত্র ও

ভ্যাকসিন দেন। সিএনএন এ দাবির সত্যতা

নিশ্চিত করতে পারেনি। তাঁর সাক্ষাতকার

গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে

সাড়া মেলেনি। তাঁর ব্লগ থেকে আইএসের

প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার পরিচয় পাওয়া যায়।

এটি অনেকটা তাঁর ব্যক্তিগত লাভস্টোরির

মত: তিনি সিরিয়ায় কীভাবে ঈমান

প্রাপ্ত হলেন, বোনের মর্যাদা লাভ করলেন

ও ভালোবাসা পেলেন। তাঁর জীবন

কাহিনী এক রোমান্টিক উপন্যাসের মতই,

অনিশ্চয়তায় ভরা। যেমন তাঁর স্বামী

মরক্কোর এক আইএস যোদ্ধা রণাঙ্গনে

থাকা অবস্থায় তাঁর পাঠানো বার্তার

জবাব দেননি। শামস আইএসের জীবনকে

স্বপ্নময় বলে বর্ণনা করেন। তিনি বিদেশী

যোদ্ধারা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান তার

একট তালিকা দেন যার মধ্যে রয়েছে

বিনা ভাড়ায় বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা&n

bsp; ইত্যাদি। যারা সিরিয়ায় আসতে চায়

সে সব যোদ্ধাদের জন্য তাঁর টিপসÑ

কিছু ভালো কাপড় ও বুট নিয়ে এসো, কারণ

এখানে যা পাওয়া যায় তার মান

হতাশাজনক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আইএস

নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জীবনযাত্রা কঠোর।

একটি যুদ্ধকবলিত এলাকার মধ্যে বাস করে

তিনি অনিশ্চিত জীবনের কথা স্বীকার

করেন যে রণাঙ্গনে তাঁর স্বামীর ভাগ্য

পূর্ব নির্ধারিত হয়ে আছে। তিনি

নিম্নোক্ত কথা লিখে একটি ছবি পোস্ট

করেছেনঃ শাহাদাত আমাদের জীবনের

অংশ। মাত্র অল্প কয়েক মাস আগেও

সামিরা আবাসী ছিল লন্ডনের আর দশটি

কিশোরীর মতই। কোন জুতা কেনা তার

পছন্দঃ ভ্যান্স। প্রিয় ফুটবল ক্লাবঃ

চেলসি। স্কুলে সবচেয়ে অপছন্দের পাঠ্য

বিষয় কি? পরিসংখ্যান। কিন্তু জানুয়ারি

নাগাদ ১৫ বছরের কিশোরীর ফেসবুকের

অ্যাকাউন্ট ভরে ওঠে সিরিয়ার

উদ্বাস্তুদের দুর্দশার নানা বিবরণে যার

অনেকগুলোই সে প্রেরণ করে পূর্ব লন্ডনের

বেথনাল গ্রীন স্কুলের দু’ সহপাঠিনী

খাদিজা সুলতানা ও শামিমা বেগমকে।

আইএস কীভাবে তরুণীদের আকৃষ্ট করে তা

জানার জন্য আবাসির অনলাইন কর্মকা-

পর্যবেক্ষণকারিণী আইএসডির মেলানি

স্মিথ বলেন, এটি খুব দ্রুত উগ্রপন্থীকরণ

প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, আমরা আসলে

দেখতে পাচ্ছি সে কীভাবে সিরিয়ার

রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে অধিকতর

জড়িত হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত

দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। ধারণা করা হয়

যে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের এক

সহপাঠিনীর সিরিয়া গমনের ঘটনা আবাসি,

খাদিজা ও শামিমাকে উদ্বুদ্ধ করে।

তারপরই আবাসির টুইটে তাদের কিশোরী

কণ্ঠ চাপা পড়ে এবং সে অনেক বেশী

পরিমাণে রাজনীতি ও ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট

হয়।আইএসডি’র এরিন সল্টম্যান বলেন,

মহিলাদের প্রচুর সময় থাকে, বিশ্ব সমস্যার

প্রতি তাদের আবেগময় অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

তারা উগ্রপন্থীদের দৃষ্টিতে দেখে যে

বিশ্বে মুসলমানরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে,

বিশ্ব তাদের প্রতি সহিংস হয়ে উঠেছে,

মুসলমানদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান

সৃষ্টি করা ধর্মীয় কাজ। এর বিরোধিতা

করা কঠিন। বিশ্বব্যাপী এটি এক

শক্তিশালী মত। ফেব্রুয়ারিতে আবাসির

ফিডে একটি ছবি আসে যাতে বোরকায়

সারা দেহ ঢাকা তিন মহিলাকে দেখা

যায়। ক্যাপশনে লেখা ছিল

“আখওয়াত” বা বোনেরা।

চারদিন পর তিন কিশোরীর ইস্তাম্বুলের

উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার

হওয়ার ছবি দেখা যায় সিসি টিভি

ক্যামেরায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা

যায় তারা তুরস্ক সীমান্তে একজনের

সাথে কথা বলছে যাকে পুলিশ তুরস্ক

থেকে সিরিয়ায় লোক পাচারকারী

হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের

পরিবারের লোকজন তাদের ফিরে আসার

জন্য কান্না জড়িত আবেদন জানালেও

কোনো ফল হয়নি। সর্বশেষ, তিন কিশোরীই

রাক্কায় আছে বলে ধারণা। এ সপ্তােেহ

কিশোরীদের পরিবারগুলোর আইনজীবীরা

এক বিবৃতিতে বলেন যে কিছু তরুণী তাদের

পরিবারদের সাথে যোগাযোগ করেছে।

তারা জানিয়েছে, যে তারা নিরাপদ ও

সুস্থ আছে, কিন্তু তারা সবাই আর একসাথে

নেই। অদূর ভবিষ্যতে তারা যুক্তরাজ্যে

ফিরবে এমন সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়।

আকসা মাহমুদের পরিবারের বিশ্বাস যে

তাদের কন্যা আবাসি, খাদিজা ও

শামিমাকে সিরিয়া যাবার জন্য প্রলুব্ধ

করেছে। ১৯ বছরের এ তরুণী স্কটল্যান্ডের

গ্লাসগোর অভিজাত এলাকার তাদের

বাড়ি থেকে ২৩ নভেম্বর, ২০১৩ পিতাকে

আলিঙ্গন করে বেরিয়ে যায়। তার আর

কোনো খবর মেলেনি। চার বছর পর আকসা

বাড়িতে ফোন করে জানায় যে সে

সিরিয়ায় আছে।উগ্রবাদে আকসার দীক্ষা

তার পরিবারকে স্তম্ভিত করেছে। তারা

বলেন, একজন সাধারণ কিশোরীর মতই সে

বেড়ে উঠেছে। তার বাবা বলেন, সবচেয়ে

ভালো মেয়ে বলতে যা বোঝায় সে তাই।

আমরা জানি না যে কি থেকে কী হয়ে

গেল। জয়নাব শারুফ স্বেচ্ছায় আইএসে যোগ

দিতে চায়নি। জয়নাবের বয়স যখন ১৩ তখন

তার পিতা অভিযুক্ত সন্ত্রাসবাদী খালেদ

শারুফ পরিবারকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের চোখ

এড়াতে তার ভাইয়ের পাসপোর্ট ব্যবহার

করে অস্ট্রেলিয়া থেকে সিরিয়া পৌঁছে।

আইএসের এলাকায় পৌঁছার পর সে নতুন

পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং

আইএসের সহিংস, উগ্রবাদী মতবাদে নেয়।

পরবর্তীতে এক পোস্টে সে বলে যে আমি

উগ্রবাদী নই। আমি যা করছি দ্বীনের জন্য

করছি। এ সপ্তাহের খবরে জানা যায়,

জয়নাবের পরিবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে

যেতে চাইতে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার

প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট হুঁশিয়ারি

উচ্চারণ করে বলেছেন, তারা যদি ফিরে

আসে তাহলে আইনের পূর্ণ প্রয়োগের

সম্মুখীন হবে। মাত্র এক বছর আগে সালমা

ও জাহরা হ্যালেন নামের দু’ যমজ

বোন উত্তর ইংল্যান্ডের একটি স্কুলের

জনপ্রিয়, উচ্চাকাক্সক্ষী, পড়াশোনায়

অত্যন্ত মনোযোগী ছাত্রী ছিল। তারা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে

আগ্রহী ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের জুনে ১৬

বছর বয়সী দু’কিশোরী তাদের বাড়ি

থেকে পালায়, তারা প্রথমে তুরস্কে যায়,

সেখান থেকে সিরিয়া পৌঁছে।আইএসডির

মতে, তারা দু’জনই আইএস যোদ্ধাদের

বিয়ে করেছে। সালমা তার অ্যাকাউন্ট

মারফত অন্য যারা আইএসে যোগ দিতে

আগ্রহী তাদের আইস নিয়ন্ত্রিত এলাকায়

কীভাবে স্বামী খুঁজে পেতে হয় সে

বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে। তার বোন জাহরা

টুইটারে নিজের জোরালো উপস্থিতি

অব্যাহত রেখেছে এবং আইএস যোদ্ধাদের

কর্মকা-ের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে

চলেছে। আইএসডির বিশ্বাস যে দু’

তরুণীই ডিসেম্বরে তাদের স্বামী

হারিয়েছে। ৬ ডিসেম্বর জাহরা তার এক

টুইটে বলে, সে ছিল আল্লাহর এক রহমত,

আমি শীঘ্রই তার সাথে মিলিত হব। এর এক

সপ্তাহ পর সালমার টুইটে বলা হয়, আল্লাহ

আমার স্বামীকে গ্রহণ করুন। আমি এখন

শহীদের স্ত্রী এবং তা হতে পেরে

সম্মানিত।এ দু’ কিশোরীই সোমালি

বংশোদ্ভূত। তারা তাদের বড় ভাইয়ের

দ্বারা প্রভাবিত হয়। কর্তৃপক্ষের মতে সে

২০১৩ সালে সিরিয়ায় যুদ্ধে যোগ দেয়।

পরে সে রণাঙ্গন ত্যাগ করে। বর্তমানে সে

ডেনমার্কে রয়েছে।  বিশ্লেষকর

া বলেন, দু’ কিশোরী যদি তাদের

ভাইয়ের মত আইএস ত্যাগ করতে চায় তা

হবে এক কঠিন ব্যাপার। সল্টম্যান বলেন,

আপনি যদি নারী হন আর আইএসের ভূখ-ে

যান তবে পশ্চিমা সমাজে ফিরে আসা

দশগুণ কঠিন হবে। আমরা কয়েকশ’

লোককে ফিরে আসতে দেখেছি, কিন্তু

মহিলাদের জন্য তা অসম্ভব। কারণ, কোনো

নারীর বাড়ি ছাড়ার জন্য পুরুষের অনুমতির

প্রয়োজন পড়ে। কোথাও যেতে হলে নারীর

সাথে লোক প্রয়োজন। আপনি আইএসের

এলাকায় পৌঁছলে আপনার পাসপোর্ট

বাজেয়াপ্ত করা হয়। আপনার জন্য

আইএসের এলাকা ত্যাগ ও সীমানা পেরনো

প্রায় অসম্ভব। সূত্র সিএনএন

ইন্টারন্যাশনাল।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s