আল্লাহ আমাদের বিজয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন” -শাইখ আনওয়ার আল আওলাকি রাহিমাহুল্লাহ..

●●আমরা নিশ্চয়ই এই হাদীস
জেনে থাকবো যেখানে মানব
ইতিহাসের পর্যায়
বা ধারা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেনঃ “রিসালাহ্ তোমাদের
মাঝে ততদিন থাকবে, যতদিন
আল্লাহ্ চাইবেন,
পরে তা তুলে নিবেন। এরপর
আসবে খিলাফাহ্ রাশিদার যুগ
যা রিসালাতের নীতিতে চলবে।
আল্লাহ্ যতদিন চাইবেন
তা তোমাদের মাঝে বিরাজ
করবে, পরে তা তুলে নেয়া হবে।
এরপর শুরু হবে বংশানুক্রমিক নেতৃত্ব
(রাজত্ব), আল্লাহ্ যতদিন চাইবেন
তা ততদিন তোমাদের
মাঝে বিরাজ করবে;
পরে তিনি চাইলে তা তুলে নিবেন।
তারপর শুরু হবে জালেম শাসকের
যুগ, যতদিন আল্লাহ্ চাইবেন,
তা বিদ্যমান থাকবে, অতঃপর
তা অপসারণ করবেন। তারপর
ফিরে আসবে খিলাফাহ্ রাশিদাহ্
যা রিসালাতের অনুগামী হবে।”
এরপর তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] চুপ
করলেন”। ( মুসনাদ ইমাম আহমেদ খন্ড-
২৭৩, নুমান ইবন বাশীর
(রা)থেকে বর্ণিত)
● হাদীসে বর্ণিত রিসালাতের যুগ
রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
তিরোধানে সমাপ্ত হয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে খিলাফায়ে রাশিদার
যগু যা আবু বকর
(রা)হতে আলী (রা)সময় পর্যন্ত
বিস্তৃত। তারপর
পর্যায়ক্রমে আসে রাজতন্ত্র
উমাইয়া, বনু আব্বাস,
খিলাফায়ে উসমানিয়ার যুগ।
তারপর হবে ফিৎনা, ফাসাদ,
স্বৈরতন্ত্রের যুগ।
● আমরা বর্তমানে এই যুগে বসবাস
করছি। তারপর পুনরায়
ফিরে আসবে খিলাফায়ে রাশিদা।
এভাবে পৃথিবীর সমাপ্তি ঘটবে,
রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু
শেষে মৌনাবলম্বন করেন,
তা থেকেই এই ইঙ্গিত পাওয়া যায.
●কখনও আমরা সময়ের বা কালের
অভিযোগ করে বলি যে,
আমরা সবচেয়ে খারাপ
সময়ে বসবাস করছি যখন উম্মাহ্ দুর্বল,
অসহায়, পরাজিত, বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত।
আমরা যদি সাহাবীগণের
যুগে বসবাস করতাম
কিংবা ইসলামের
স্বর্ণলী যুগে থাকতাম।
নিম্নলিখিত কারণে আমাদের
কালের বা সময়ের
বিরুদ্ধে অভিযোগ করা উচিত নয়
●●●●প্রথম কারণঃ
জনৈক তাবেঈ একজন
সাহাবীকে জিজ্ঞাসা করেন,
রাসলূ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন
আপনাদের মাঝে ছিলেন, তাঁর
সাথে আপনারা কী রূপ আচরণ
করতেন?” উত্তরে সাহাবী বললেন
কিভাবে তারা রাসূলের
সাথে সাধ্যমত উত্তম ব্যবহার করতেন।
তাবেঈ শুনে বললেন, “রাসূল
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম –
কে আমাদের জীবদ্দশায়
পেলে তাঁকে ঘাড়ে তুলে বহন
করতাম।” তাবেঈ
আসলে যা বুঝাতে চেয়েছেন
তা হল সাহাবীগণ রাসূলের
সাথে যথাযথ আচরণ করেনি;
যদি তাঁর সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত
থাকতেন,তবে তিনি রাসূলের
সাথে তাদের চেয়েও উত্তম আচরণ
করতেন। উত্তরে সাহাবী বললেন,
“কেউ জানে না, সে সময় জীবিত
থাকলে সে কী করত;
আমাদেরকে নিজের বাবা-
ভাইয়ের বিপক্ষে জিহাদ
করতে হয়েছে, যা কখনই সহজ কোন
ব্যাপার ছিল না। আর এখন
তোমাদের পিতা, ভাই, পরিবার,
পরিজন মুসলিম; তুমি কেবল
ধারণা করছে যে, রাসূল
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে এ
ধরণের আচরণ করতে। অতএব এমন কোন
কিছুর আকাংক্ষা করবে না,
যা আল্লাহ তোমার
তাকদীরে নির্ধারণ করেন নি.
●●●●দ্বিতীয় কারণঃ
আমাদের বর্তমান সময়
নিয়ে অভিযোগ করা উচিত নয়;
বরং বর্তমান সময়ে বাস করার জন্য
আমাদের আল্লাহ তা‘আলার
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কেন?
মুসলিম উম্মতের
মাঝে সাহাবীগণের
মর্যাদা সর্বোচ্চ, এরপর তাবেঈগণ
এবং এরপর তাবে-তাবেঈগণ।
সাহাবীগণের
মর্যাদা যে কারণে সবচেয়ে বেশি তা হল,
তারাই ইসলামের ভিত্তিমূল
রচনা করেন। তারা পুরোপুরি শূণ্য
অবস্থা থেকে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত
করেন। আর
অন্যদিকে পরবর্তী প্রজন্মের
সময়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিতই ছিল,
তারা কেবল এর বিকাশ
লাভে অবদান রেখেছেন। কোথাও
কোন বিদ‘আতের আবির্ভাব
ঘটলে তারা তা বিদূরিত করতেন,
কিন্তু সাহাবীগণের রচিত
ইসলামের ভিত তখন বর্তমান ছিল। এ
কারণেই সাহাবীগণ শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম,
কেননা তাদের ত্যাগ ছিল
সবচেয়ে বেশি আর কাজও ছিল
সবচেয়ে কঠিন।
●আমাদের জন্য
যে বিষয়টি জরুরী তা হল, সময়ের
চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা।
কেননা, একেক প্রজন্মে কাজের
গুরুত্ব ও প্রকৃতি একেক রকম।
বিষয়টি আরও পরিষ্কার
করে বলতে গেলে, ইমাম
বুখারী যদি একশ বছর পর এসে একই
কাজ করতেন, তবে তাঁর
মর্যাদা আমাদের কাছে এখনকার
মত হত না। ইমাম শাফেয়ীও যদি একশ
বছর পরে এসে, একই কাজ করতেন,
তবে তার মর্যাদাও আমাদের
কাছে বর্তমানের মত হত না। কেন?
কারণ কাজের চাহিদা বিভিনড়ব
সময়ে বিভিন্ন রকম।
●●●লক্ষ্য
করলে দেখা যাবে ফিক্বহ’র চার
ইমাম একই শতকে বসবাস করেন। আর
হাদীসের ছয়জন ইমামও ঐ একই
শতকে বসবাস করেন। এ
থেকে বোঝা যায়
যে,একটা সময়ে ফিক্বহ’র
প্রয়োজনীয়তা ছিল
সবচেয়ে বেশি আর অন্য
সময়ে হাদীসের।
এ কথাটি বলার কারণ,
আমরা যদি সর্বোৎকৃষ্ট
উপায়ে ইসলামের
সেবা করতে চাই, তবে বর্তমান
সময়ের
চাহিদা আগে উপলব্ধি করতে হবে।
আমরা দেখি যে, কতিপয়
দ্বীনী ভাই দা‘ওয়াতের উপর জোড়
দেয় আবার কেউ হয়তো বা ইলমের
উপর। আমাদের এ সকল দিকে জোড়
দেয়া উচিত তবে চা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s