ইসলামিক স্টেটের সাথে লড়তে সক্ষম নয় ইরাকি সেনাবাহিনী

২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী বছরগুলোতে আড়াই হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান ও ব্যাপকভাবে অস্ত্র সজ্জিত করার মাধ্যমে ইরাকি সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করে। কিন্তু সে সেনাবাহিনী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সাথে লড়াই করতে সক্ষম নয়। খবর লসএঞ্জেলেস টাইমস।
আমেরিকার সামরিক কমান্ডাররা বলছেন, মসুলের মত ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য শহরগুলো পুনর্দখলের জন্য প্রস্তুত হতে ইরাকি সেনাবাহিনীর অনেক মাস লেগে যাবে। এদিকে সুন্নী জিহাদিদের বাগদাদ অভিমুখে অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ইরাক সরকার শিয়া মিলিশিয়া সুন্নী গোত্রগুলোর উপর নির্ভর করছে। ইরাকি সেনাবাহিনী জানুয়ারি ও জুনে আনবার ও মসুলে আইএসের অগ্রাভিযানের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ও সৈন্যদের গণহারে সেনাবাহিনী ত্যাগের ঘটনা ঘটে। এখন কয়েক মাসের পরামর্শ ও সহযোগিতার পর কিভাবে একটি কার্যকর ইরাকি সেনাবাহিনী গড়ে উঠবে, মার্কিন কর্মকর্তারা তা ব্যাখ্যা করেননি। সৈন্যরা আইএসের হাতে আটক হলে গণমৃত্যুদ- এড়াতে অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক যানবাহন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রদত্ত অন্যান্য সরঞ্জাম ফেলে পালিয়ে যায়। আর সেগুলো দিয়ে আইএস আরো সরকারী অবস্থানে হামলা চালায়।
২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার সময় যা ঘটেছিল এখন তার বিপরীত পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
তখন সাদ্দাম হোসেনের সৈন্যরা তাঁর পক্ষে লড়াই না করে তাদের ইউনিফর্ম খুলে ফেলে, অস্ত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল যার মধ্যে রিপাবলিকান গার্ডরাও ছিল। এখন আইএস জিহাদিদের সবচেয়ে যুদ্ধাভিজ্ঞদের মধ্যে সাদ্দামের বাথ পার্টির সামরিক অফিসার ও সৈন্যরা রয়েছেন। ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর কি পরিমাণ সৈন্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত জিজ্ঞেস করা হলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র মেজর কার্টিস জে. কেলোগ বলেন, তার কিছু জানা নেই। তিনি ইরাকি সেনাবাহিনীর কাছে তা জিজ্ঞেস করতে বলেন।
ইরাকি সেনাবাহিনীর সামরিক কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বাগদাদ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল আমির কামিল বলেন, তার বাহিনী আত্মরক্ষা থেকে আক্রমণে যাওয়ার পর তাদের মনোবল উন্নত হয়েছে।
কমান্ডারদের মতে, ইরাকি সেনাবাহিনীর অর্ধেকই বাগদাদ ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। আর এর এক-তৃতীয়াংশ মোতায়েন রয়েছে আনবারে।
কামিল মসুলের পতনের জন্য কিছু কমান্ডারের বিশ্বাসঘাতকতা ও সৈন্যদের ভীতিকে দায়ী করেন। ইসলামিক স্টেট ‘দায়েশ আসছে’ বলে প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়ার পর তারা পালিয়ে যায়। কিছু সৈন্য আইএসের সাথে যোগ দেয়। তিনি বলেন, বাগদাদে কখনো এমন কিছু ঘটবে না।
ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্বীকার করেন যে বহু সুন্নী ও অন্যান্যরা শিয়া নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীকে বর্বর দখলদার বলে মনে করে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরী আল মালিকির সময় সুন্নীদের সেনাবাহিনী থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় ও সেখানে শিয়াদের নেয়া হয়।
২০০৩ ও ২০০৪ সালে ইরাকি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল পল ডি. ইটন বলেন, ইরাকি সেনাবাহিনী মালিকির প্রাইভেট মিলিশিয়ায় পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, শিয়া প্রধান বাগদাদে সাধারণ ইরাকিরা সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে, কিন্তু হাজার হাজার শিয়া মিলিশিয়ার সাহায্য ছাড়া তারা চারপাশের বাগদাদ বেষ্টনী রক্ষা করতে পারবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সতর্কভাবে সকল ইরাকির সমন্বয়ে একটি সেনাবাহিনী গড়তে চাইছিল। কিন্তু মালিকি তা ৯০ শতাংশ শিয়ার সেনাবাহিনীতে পরিণত করেন।
২০০৭ ও ২০০৮ সালে ইরাকি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত লে: জেনারেল জেমস এম. ডুবিক বলেন, মালিকির সরকার সুন্নী সামরিক অফিসারদের ভীতি প্রদর্শন ও হত্যা করে। অন্যদিকে মালিকি সামরিক কমান্ডারদের কাছ থেকে নিজের হাতে ক্ষমতা নেন। মানবাধিকার গ্রুপগুলো সুন্নীদের আটক ও হত্যার জন্য ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করে আসছে।
ইটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে ১ হাজার ৪শ’ সামরিক পরামর্শদাতা পাঠিয়েছে। তারা ইরাকি সেনাবাাহিনীকে কৌশল, পন্থা ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। কিন্তু দক্ষস্থল সেনা ছাড়া আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার খুব সামান্যই সুফল মিলবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s