খিলাফত ঘোষনা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কি ভাবছে?

সর্বশেষ ইরাক-সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বমিডিয়ায় এখন তোলপাড়। বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরাসহ অসংখ্য টিভি, নিউজ এজেন্সী, সংবাদপত্র ও অনলাইন বার্তা সংস্থা প্রতিদিনই ইরাক পরিস্থিতি নিয়ে তুলে ধরছে বিচিত্র সব সংবাদ, ছবি, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ। বাংলাদেশের পাঠক এসব দেখছেন, জানছেন। তাদের মনে নতুন কিছু ঘটনায় প্রচুর কথা ও কৌতূহল জন্ম নেয়।

শনিবার বিবিসিতে ইসলামী রাষ্ট্র (আইএস)-এর প্রধান আবু বকর আলবাগদাদীর ছবি প্রচারিত হওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। একটি কর্পোরেট ফার্মের প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার খান ইমন টেলিফোনে দৈনিক ইনকিলাবের কাছে তার কিছু জিজ্ঞাসা তুলে ধরেন। এ পাশ থেকে বলা হয়, জিজ্ঞাসার তাত্ত্বিক জবাব ইসলামী ফিকাহবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা দেবেন। আমরা আপনার কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য প্রতিদিনই বিভিন্ন নিউজ এজেন্সী ও প্রখ্যাত সংবাদ-উৎস থেকে সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছি। এ থেকে পাঠক যতটুকু তথ্য পেয়ে থাকেন, এর বেশি আর আমাদের কাছে কিছু নেই। তবে পাঠকের মতামতও আমাদের কাছে মূল্যবান উৎস। তিনি কি তার মতামত পাঠকদের জানাতে পছন্দ করবেন। জবাবে শাহরিয়ার খান ইমন ইনকিলাবকে বলেন, গভীর রাতে বিশ্বকাপের খেলা নিয়ে আনন্দ করছিলাম। ফেভারিট টিম আর্জেন্টিনা জয় পাওয়ায় আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা ছিল ফূর্তির মুুডে। বিবিসিতে তখনই দেখতে পেলাম আমার স্বপ্নের মহানায়ক আবু বকর আলবাগদাদীকে। কী সুন্দর চেহারা। কালো পাগড়ীতে উজ্জ্বল গৌরবর্ণ নুরানি অবয়ব। মসজিদের মিহরাবে দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দিচ্ছেন। আমার চোখে পানি এসে গেলো। এ কি সেই হজরত আবু বকর ও হজরত ওমরের যুগের মানুষ! একি সেই স্বর্ণযুগের মহান খলিফার অনুসারী নতুন খলিফা! তিনি সারা বিশ্বের মুসলমানের বায়আত (ধর্মীয় আনুগত্য) কামনা করেছেন। পরদিন অনলাইনে তার খুতবার ইংরেজি ভার্সন পড়লাম। স্থানীয় মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে নিয়ে গিয়ে জানতে পারলাম, এ বাক্যটি দিয়েই নাকি ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) তার প্রথম খেলাফতের ভাষণটি শুরু করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘লোকসকল, আমাকে তোমাদের আমির নিযুক্ত করা হয়েছে কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি নই। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করবে আর যদি ভুল করি তাহলে তোমরা আমাকে সংশোধন করে দেবে।’

আচ্ছা, যদি তিনি প্রকৃতই খলিফা হয়ে থাকেন তাহলে আমাদের কী করতে হবে? বাংলাদেশের মুসলমান কি ওই খেলাফতের নাগরিক হতে পারবে? খলিফার আনুগত্য তো ওয়াজিব। তাহলে আমরা কী করে এ ওয়াজিব দায়িত্বটি পালন করবো? ইমাম সাহেব আমাকে কিছু বিষয় বুঝিয়ে দিয়ে মিডিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে বললেন। এ বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিরা ইসলামী শরীয়া বিশেষজ্ঞ ও রাষ্ট্র-সমাজ-রাজনীতি বিষয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেবেন বলে জানালেন।

এ বিষয়ে মানুষের কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা নিয়ে আমরা একটি প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্যে কিছু লোকের সাথে কথা বলি।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) মোস্তফা বলেন, আবু বকর আলবাগদাদীর উত্থান একটি আশাব্যঞ্জক ঘটনা। যদি তার নিয়্যত শুদ্ধ ও কর্মপন্থা গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে তার আনুগত্য ওয়াজিব হয়ে পড়বে। বিশ্বের সব মুসলমান নতুন একটি আলোর দিশা পেয়ে যাবে। মিয়ানমার থেকে মধ্য আফ্রিকা পর্যন্ত মজলুম মানুষ জেগে উঠবে। যদি বিরোধীদের সম্মিলিত আক্রমণে আইএস ব্যর্থও হয়, যদি এসব যোদ্ধা ধ্বংসযজ্ঞ হয়ে যায় তবুও তারা আল্লাহর নিকট মহাপুরস্কার লাভ করবে। তারা ধ্বংস হলেও পরাজিত হবে না। তাদের জয় বা পরাজয় দু’টোই নতুন পথ রচনা করবে। এরা প্রায় শত বছর যাবত বিশ্বমুসলিমের হৃদয়ে লালিত একটি স্বপ্নকে রূপায়িত করে যাবে। এই খিলাফত, এই আহ্বান, এই সংগ্রাম-ত্যাগ ও সাধনা আগামী দিনের মুসলিম প্রজন্মকে নবজাগরণের উদ্দীপনা জোগাবে।

মানিকগঞ্জ দারুল উলুম রাব্বানীয়া মাদরাসার শায়খুল হাদিস মুফতি ফয়জুদ্দীন আহমদ বলেন, শরিয়তের আলোকে এই আহ্বানে সাড়া দেয়া বিশ্বের ১৭০ কোটি মুসলমানের ওপরই ওয়াজিব। শুধু সময়ের অপেক্ষা। যদি আলবাগদাদী মূলতই খেলাফত পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন এবং তার রাষ্ট্রটি টিকে যায় তাহলে তাকে নেতা হিসেবে বরণ করে নেয়া বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম শাসকদের ওপর ফরজ হয়ে পড়বে। সে সময় বোঝা যাবে কারা প্রকৃতই ইসলাম চায় আর কারা ইসলামের নামে ক্ষমতা চায়। আবু বকর আলবাগদাদী যেমন সারা দুনিয়ার সুযোগ্য ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের ইরাকে ছুটে যেতে বলেছেন, তেমনি তার সাহায্যে পৃথিবীর সেরা ইসলামিক স্কলারদেরও ইরাকে ছুটে যাওয়া কর্তব্য। যদি যাওয়ার পরিবেশ নাও থাকে তাহলে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে সঠিক পরামর্শ দেয়া প্রয়োজন। আমাদের কাছে বহু যুবক ও তরুণ জানতে চায়, ইরাক যাওয়ার উপায় কী?

এস.এম. বোরহান উদ্দীন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বহুল আলোচিত এ বিষয়টি নিয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ দখলে নিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের ঘোষণা দিয়েছেন ইরা

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s