অস্ত্র রাখা আল্লাহ্‌র হুকুম !

আল্লাহ্‌ বলেন, “আর স্মরণ করো! আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি‌শ্রুতি দিয়েছিলেন দুই দলের একটি তোমাদের দেওয়া হবে, আর তোমরা চেয়েছিলে যা অস্ত্রসজ্জিত নয় তাই তোমাদের হোক, অথচ আল্লাহ্ চেয়েছিলেন (তোমরা অস্ত্রধারী হও) যেন সত্য সত্য প্রতিপন্ন হয় তাঁর বাণীর দ্বারা, আর যেন তিনি অবিশ্বাসীদের শিকড় কেটে দেন — (সুরা আনফাল: ৭)”

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, আল্লাহ্‌ দুইটি দলের একটি আমাদের দিতে চেয়েছেন। একটি দল অস্ত্রধারী এবং শক্তিশালী আর একটি দল অস্ত্রধারী নয় এবং দুর্বল। মুমিনরা প্রথমে দুর্বল হতে চেয়েছিল, অস্ত্র ছাড়াই চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ্‌ সুবঃ আমাদেরকে দুর্বল হতে নিষেধ করেছেন এবং স্পষ্ট সত্য প্রতিপন্ন বাণীর দ্বারা অস্ত্র রাখতে বলেছেন যাতে শত্রুরা আমাদের উপর কর্তৃত্ব না দেখাতে পারে।

রাসুল সাঃ বলেন, “ইন্নাল মুমিনাল কওই ইয়া আহাব্বুইলাল্লাহ মিনাল মুমিনিন জইফ”

– দুর্বল মুমিন অপেক্ষা সবল মুমিন আল্লাহ্‌র নিকট অধিক প্রিয়।

অর্থাৎ আমরা শক্তি অর্জন করবো আল্লাহ্‌কে খুশি করার জন্য। এটি একটি ইবাদাত।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, শক্তি বলতে কিসের শক্তি? মনের নাকি শারীরিক?

এ প্রসঙ্গে রাসুল সাঃ বলেন, “আলা ইন্নাল কুয়াতার রমি, আলা ইন্নাল কুয়াতার রমি, আলা ইন্নাল কুয়াতার রমি, “

অর্থ “জেনে রাখো শক্তি হচ্ছে নিক্ষেপ করা, শক্তি হচ্ছে নিক্ষেপ করা, শক্তি হচ্ছে নিক্ষেপ করা।”

এখানে রমি অর্থ নিক্ষেপ করা, কেবল তীর নিক্ষেপ করার কথা বলা হয়নি। বরং যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন সকল Latest অস্ত্র নিক্ষেপ করা মুসলিমদের শিখতে হবে। সেটা গ্রেনেড হোক, আরপিজি হোক আর যদি কিছু নাই পাওয়া যায় তবে পাথরই হোক। রাসুল সাঃ নিজেও পাথর নিক্ষেপ করেছেন। আর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত এখনও হজের সময় শয়তানকে পাথর মেরে সেখানে উন্মুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

আল্লাহ্‌ আরও বলেন, “আর যখন তুমি তাদের মধ্যে অবস্থান করো আর তাদের জন্য নামাযে দাঁড়াও, তখন তাদের মধ্যের একদল তোমার সঙ্গে দাঁড়াক এবং তাদের অস্ত্রধারণ করুক, কিন্তু যখন তারা সিজদা দিয়েছে তখন তারা তোমাদের পেছন থেকে সরে যাক, আর অন্যদল যারা নামায পড়ে নি তারা এগিয়ে আসুক ও তোমার সঙ্গে নামায পড়ুক, আর তারা তাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও তাদের অস্ত্রগ্রহণ করুক, কেননা যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা চায় যে যদি তোমরা তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র ও তোমাদের মাল-আসবাব সন্বন্ধে অসাবধান হও তবে তারা তোমাদের উপরে এক ঝাঁপে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। আর তোমাদের উপরে অপরাধ হবে না যদি তোমরা বৃষ্টিতে বিব্রত হও অথবা তোমরা অসুস্থ হও, ফলে তোমাদের অস্ত্র রেখে দাও, কিন্তু তোমাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করো। নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহ্ তৈরি করেছেন লাঞ্ঝনাদায়ক শাস্তি। (সুরা আন নিসা: ১০১)”

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শত্রুরা সবসময় চেষ্টা করে কিভাবে আমাদেরকে অস্ত্র হতে দূরে রাখা যায়, কারণ আমরা অস্ত্র থেকে সামান্য দূরে থাকলেই কাফিররা একযোগে আমাদের উপর হামলা করবে, আমাদের দুর্বল করে ফেলবে। এজন্য আল্লাহ্‌ বলেছেন এমনকি নামাজের সময়েও কিছু মুমিন অস্ত্র নিয়ে পাহারা দিবে আর নামাজ শেষে বাকিরা আদায় করবে। শুধু তাই নয়, বৃষ্টিতে বিব্রত কিংবা অসুস্থ না হলে অস্ত্র রেখে দেওয়া চরম অপরাধ। কারণ আমাদের কিছুটা অন্যমনস্কে কাফিররা রাজ করবে।

এখন কিছু বোতল হুজুর মুজাহিদদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর জন্য ফতোয়া দিয়েছে ‘জ্বিহাদে তীরের পরিবর্তে একে ৪৭ ব্যবহার করা বিদআত’।

আসুন এই ফতোয়া কুরআন হাদিস দিয়ে খণ্ডাই।

এই প্রশ্নটি আমাদের প্রায়ই শুনতে হয় কারণ আল কায়েদা ও তালিবান কেন জ্বিহাদে ঘোড়া ও তীর রেখে কাফিরদের তৈরি ভারি অস্ত্র যেমন AK 47, AK 49, M80, P99, RPG, গ্রেনেড ইত্যাদি হাতে তুলে নিয়েছে। এগুলোকে এককথায় ‘বিদআত’ ঘোষণা করে এক শ্রেণীর দরবারী আলেম বা বোতল হুজুর জনগণকে বিভ্রান্তির মাঝে ফেলে দিয়েছে।

আসুন দেখি আল্লাহ্‌ সুবঃ কি বলেন?

“আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্য-এর মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন তা প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ্ তাদেরকে চেনেন। বস্তুত: যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না।”

[সুরা আনফাল – ৬০]

এই আয়াতের সকল কিতাবের তাফসীর পড়ে বোঝা যায়, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া আল্লাহ্‌র হুকুম। এবং এখানে বলা হয়েছে ‘যাই কিছু সংগ্রহ করতে পারো’।

কেউ যদি লাঠি পারে তবে সে লাঠিই নয়ে বের হবে, আর কেউ যদি AK 47 পারে তবে সে সেটা নিয়েই বের হবে। এখানে ‘অস্ত্র সংগ্রহের ব্যাপারে’ আল্লাহ্‌ সুবঃ সবাইকে ছাড় সুযোগ দিয়েছেন যে যত ভারি আনতে পারবে এটা তার সফলতা।

আল্লাহ্‌ আবার বলেছেন, ‘যেন তা প্রভাব পড়ে আল্লাহ্‌র

Advertisements