“জিহাদের” ইহুদীরা (আয-যাওয়াহিরির আল- কায়দা)

সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সর্ব মহান
এবং সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সালাত ও সালাম
বর্ষিত হোক হাসিমুখে জবাইকারীর প্রতি
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং
তাঁর পুত-পবিত্র পরিবারবর্গের প্রতি।
অতঃপর:
অন্যান্যদের মতো আমিও একটি অপরিচিত
মিডিয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত
একটি ভিডিও দেখেছি, যেখানে “বিধ্বস্ত
চেহারার”এক ব্যক্তিকে খিলাফাহ’র
সমালোচনা করতে দেখা যায়, সে দাবি
করে যে, সে পূর্বে ইয়েমেনের
উলাইয়াতের একজন সৈনিক ছিল। দৃশ্যটি
আমাকে “আল-বাসিরাহ” ফাউন্ডেশনের
কথা এবং এর সাক্ষ্য সমূহের কথা মনে
করিয়ে দেয়, যা একদিনের জন্যেও দ্বীনের
পূর্নজাগরণকে দীর্ঘায়িত করতে পারে নি।
(রাসূলুল্লাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদিস অনুসারে)
প্রতি একশত বছরে দ্বীনের পূর্নজাগরণ হয়ে
থাকে আর এটা হয়েছিল আশ-শাম এবং
ইরাকে খিলাফাহ ঘোষণার মাধ্যমে। এতে
দেখা যায় যে, আল-হাদরামাওতে জাতীয়
পরিষদের মিত্ররা খুব নিবিড়ভাবে রিয়াদ
কনফারেন্সের মিত্রদের পথ অনুসরণ করছে,
বরং এই ব্যাপারে তাদের রোল মডেল হচ্ছে
সেই সকল লোক যাদের উপর আল্লাহর
ক্রোধ এবং লানত আপতিত হয়েছে, আর
তারা হলো বনী ইসরাইলের আলেমরা…

আল্লাহ (তায়ালা) ইহুদীদের ব্যর্থ
ষড়যন্ত্রকে পরিষ্কার করতে গিয়ে বলেন,
{আর আহলে-কিতাবগণের একদল বললো,
মুসলমানগণের উপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে
তাকে দিনের প্রথম ভাগে মেনে নাও, আর
দিনের শেষ ভাগে অস্বীকার কর, হয়তো
তারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।} [আল-
ইমরান: ৭২]
আল সুদ্দী (আল্লাহ তার উপর রহম করুন)
বলেন, “এক আরব গ্রামে বারজন ইহুদী
পণ্ডিত ছিলো, তারা একে অপরকে বলতো,
‘দিনের শুরুতে মোহাম্মাদের দ্বীনে প্রবেশ
করো আর বলো ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি
মোহাম্মাদ সত্য এবং সত্যবাদী’ এবং
দিনের শেষে অবিশ্বাসী হয়ে যাও এবং
বলো, ‘আমরা আমাদের জ্ঞানী লোক এবং
আমাদের ইহুদী পণ্ডিতদের কাছে ফিরে
এসেছি এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা
করেছি।’ তারা বলেছে, ‘নিশ্চয়ই
মোহাম্মাদ মিথ্যুক এবং তোমরা শূন্যের
উপর আছো।’ তাই আমরা আমাদের দ্বীনে
ফিরে এসেছি, কারণ তা তোমাদের
দ্বীনের চেয়ে অধিক হৃদয়গ্রাহী। (এ রকম
বললে) তারা (মু’মিনরা) হয়তোবা সন্দেহে
পতিত হবে আর একে অপরকে বলবে, ‘দিনের
শুরুতে এই লোকগুলো আমাদের সাথেই
ছিলো, এখন তাদের কি হলো?’” অতঃপর
আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম)-কে এ ব্যাপারে অবগত
করেন।” [তাফসীর আত-তাবারি]
আব্দুর রাহমান বিন যায়দ বিন আসলাম
আল-‘আমরী (আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন)
বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ঈমানদার ছাড়া
কেউ যেন মদিনাহ শহরে আমাদের ভিতরে
প্রবেশ না করে।” তাই ইহুদীদের প্রধানরা
বললো, ‘যাও এবং বলো, আমরা ইমান
এনেছি এবং যখন ফিরে আসবে তখন আবার
অবিশ্বাসী হয়ে যেও। অতঃপর তারা
ভোরে মদিনায় যেত এবং আছরের পর
তাদের কাছে ফিরে আসতো। যখন তারা
মদিনায় প্রবেশ করতো তারা বলতো,
‘আমরা মুসলিম! যাতে তারা রাসূলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর
সর্বশেষ পরিস্থিতি ও তাঁর অবস্থা জানতে
পারে। ইমানদারগণ মনে করতেন তারাও
মু’মিন এবং তাদেরকে বলতেন, ‘তিনি
(সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) কি তাওরাতে
তোমাদের অমুক অমুক বিষয় বলেন নি?’
অতঃপর তারা বলতো, ‘হ্যাঁ অবশ্যই।’ অতঃপর
যখন তারা তাদের লোকদের কাছে ফিরে
আসতো তখন তাদের বলা হলো :{পালনকর্তা
তোমাদের জন্যে যা প্রকাশ করেছেন, তা
কি তাদের কাছে বলে দিচ্ছ?} [আল-
বাক্বারাহ ৭৬]” [তাফসীর আত-তাবারি]
হ্যাঁ, জায়োনিস্ট বুদ্ধিজীবীরা মাদিনাহ’র
পাশে সমবেত হতো এবং একে অপরকে
বলতো, “দিনের শুরুতে ইমান আনবে এবং
ইয়াসরিবে প্রবেশ করবে। মোহাম্মাদের মত
সালাত পড়ার ভান করো এবং তার
সাথীদের সাথে বসো, তাদের সাথে কথা
বলো এবং নিজের জ্ঞান অনুসারে তাদের
প্রশ্নের উত্তর দাও। আর মোহাম্মাদ ও তাঁর
পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর নাও, তারপর
আমাদের কাছে ফিরে আসো এবং
আমাদেরকে সবকিছুর ব্যাপারে অবগত
করো। তারপর তাঁর সাথীদের বলো যে,
তোমরা তাঁর দ্বীন বের হয়ে গেছো
কেননা কিতাব থেকে সে বিচ্যুত হয়ে
গেছে। এবং মোহাম্মাদ ও তাঁর দ্বীনের
সমালোচনা করো, এতে হয়তো বা কিছু
মুসলিম তাদের পূর্বপুরুষদের শিরকে ফিরে
যাবে। তখন আমরা অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে
বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করবো যেমনটা
আমরা পূর্বে করতাম!”
এবং এই জায়োনিস্ট বুদ্ধিজীবীদের
আরেকটি কৌশল ছিলো, যেমনটি আশ-শাবী
(আল্লাহ তার উপর রহম করুন) বলেন, “আমি
তোমাদের ভ্রষ্ট প্রবৃত্তির ব্যাপারে
সাবধান করছি, আর রাফিদারা হচ্ছে
তাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। কারণ
তাদের মধ্যে রয়েছে ইহুদী, যারা ইসলামের
ভান করতো যাতে তাদের গোমরাহী টিকে
থাকতে পারে, ঠিক যেমন পল খৃস্টান
ধর্মের ভান করেছিলো, যাতে তাদের
(ইহুদীদের) গোমরাহী টিকে থাকে। তারা
আকাঙ্ক্ষা বা আল্লাহর ভয় থেকে
ইসলামে প্রবেশ করে নি, বরং তারা
প্রবেশ করেছিল ইসলামের অনুসারীদের
প্রতি তাদের প্রবল ঘৃণার দরুন এবং তাদের
বিরুদ্ধে সীমালঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে।
‘আব্দুল্লাহ ইবন সাবা’ ছিল তাদেরই একজন
[সান’আ থেকে আগত এক ইহুদী]।” [আল-
খাল্লাল, আল-লালিকা’ই এবং অন্যান্যদের
কর্তৃক বর্ণিত]
শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ
তার উপর রহম করুন) বলেন, “যে জিন্দিক
মুনাফিক প্রথম রাফিদাবাদের আবিষ্কার
করে তার নাম ছিলো ‘আব্দুল্লাহ বিন
সাবা’। এর (রাফিদাবাদ) মাধ্যমে সে
মুসলিমদের দ্বীনকে কলুষিত করার চেষ্টা
করেছিলো, যেমনটা করেছিল পল, যে ছিল
খৃস্টানদের কিতাবের লেখক, যে ধর্মের
মধ্যে বিভিন্ন ধরণের নতুন আবিষ্কার
করেছিলো। সে (পল) ছিল এক ইহুদী কিন্তু
কপটতার সাথে সে নিজেকে খৃস্টান
হিসেবে প্রদর্শন করেছিল, যাতে ধর্মকে
কলুষিত করা যায়। একই ভাবে, ইবন সাবা’ও
ইহুদী ছিলো এবং তার উদ্দেশ্য একই ছিল।
সে মিল্লাত পরিবর্তন করার জন্য ফিতনা
সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সে তা
করতে অক্ষম ছিল। তদুপরি যখন উসমান
(রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিহত হলেন, মুমিনদের
মধ্যে প্ররোচনা এবং ফিতনা’র সৃষ্টি হলো
এবং যা হওয়ার তাই হলো…” [মাজমু’ আল-
ফাতওয়া]। তিনি (আল্লাহ তাঁর উপর রহম
করুন) আরও বলেন, “ইবন সাবা’ মানুষ
দেখানোর জন্য ইবাদত-বন্দেগী করতো এবং
সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ
করতো, যতক্ষণ না সে উসমান
(রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কিত ফিতনা’র
সৃষ্টি করলো এবং তাকে হত্যা করলো।
তারপর যখন সে আল-কুফায় ফিরে এলো, সে
‘আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ব্যাপারে
বাড়াবাড়ি করলো এবং দাবি করলো যে,
তা আয়াত সমূহে আদেশ করা হয়েছে, যাতে
সে তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে।” [মিনহাজ
আস-সুন্নাহ]
হ্যাঁ, ইয়েমেনের জায়োনিস্ট বুদ্ধিজীবীরা
–ইবন সাবা’ এবং তার সাথীরা- ইসলামে
প্রবেশ করেছিলো এই দ্বীনের ভিত্তিকে
ধ্বংস করতে এবং এর আইনগুলোকে নিশ্চিহ্ন
করতে। তারা এই ভেবে প্রবেশ করেছিলো
যে, যদি তারা মুসলিমদের এই মহানুভব
হানিফিয়্যাহ (তাওহীদ) থেকে বিপথগামী
করতে পারে, তাহলে ইহুদীদের (বনী
ইসরাঈল) দুশমন আরবসহ (বনী ইসমাইল)
অন্যান্য গোত্রের বিরুদ্ধে আল্লাহ তাদের
বিজয় দান করবেন। যখন তাদের দুর্বল কৌশল
অকৃতকার্য হলো, তারা মুসলিমদের মধ্যে
ফিতনা’র আগুন জ্বালিয়ে দিলো, যতক্ষণ
না তারা যুন-নুরাইন (উসমান- রাদিয়াল্লাহু
আনহু)-কে হত্যা করলো এবং তারপর আবুল
হাসানাইন (আলী- রাদিয়াল্লাহু আনহু,
যিনি দুই হাসান অর্থাৎ আল-হাসান ও আল-
হুসাইনের পিতা ছিলেন)-কেও।
নিঃসন্দেহে আয-যাওয়াহিরির ‘কায়দা’,
“জিহাদের ইহুদীদের” রাজনীতি হলো তা-
ই… যেভাবে তারা খিলাফাহ’র ভিতর
অনুপ্রবেশ করে এর মানহাযকে বিনষ্ট করতে
চেয়েছিলো এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তারা
কখনই তা করতে পারবে না, কারণ আল্লাহর
ইচ্ছায় তা নবুয়্যাতের মানহাযের উপর
টিকে থাকবে, যদিও তারা তা পছন্দ করে
না। তারা চেয়েছিলো তাদের বাইয়াহ
ভঙ্গ করে খিলাফাহ’র সারী সমূহের ভিতর
ফিতনা’র সূত্রপাত করবে এবং এর ফলে
তাদের সাথে সাথে যাদের অন্তর
রোগাক্রান্ত তারা তাদেরকে (খিলাফাহ-
কে) ত্যাগ করবে। আল্লাহ যেন খিলাফাহ’র
সারী সমূহকে মুনাফিক এবং গুজব
সৃষ্টিকারী ও তাদের অনুসারীদের থেকে
পবিত্র করেন।
অতঃপর তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা
ছিলো তারা আল-কায়দার সকল শাখা
নিয়ে খিলাফাহ’র প্রতি বাইয়াহ প্রদান
করবে এবং “চরমপন্থি দল” এর বিরুদ্ধে
“মধ্যপন্থী দল”-কে সমর্থন দিবে, অথবা
যেমনটা তারা দাবি করে যে “‘আদনানীর
দল” এর বিরুদ্ধে “বাগদাদীর দল”-কে সমর্থন
করবে। তারা এই ভেবেছিলো যে,
খিলাফাহ হচ্ছে পথভ্রষ্ট নেতাদের
আন্দোলনের মত যেমন আল মাকদিসি, আল-
ফিলিস্তিনি, আস-সিবাই এবং অন্যান্য
যারা তাদের গোমরাহীর মূলনীতির
ব্যাপারে পার্থক্য রয়েছে, যেমন তারা
“টুইট” এর মাধ্যমে একে অপরের তোষামোদ
করে এবং ব্যক্তিগত বার্তায় একে অপরের
কুৎসা রটায়। কিন্তু খিলাফাহ হিজরাহ,
জিহাদ, শোনা, মান্য করা ও জামা’আহ
ছাড়া আর কিছুই নয়, যার সবগুলোই
নবুয়্যাতের মানহাযের উপর প্রতিষ্ঠিত।
আক্বিদাহ এবং এর মানহাযের ব্যাপারে
এর নেতাগণের হৃদয় এমনভাবে একতাবদ্ধ
যেন তা এক ব্যক্তির হৃদয় এবং এর সেনারা
হচ্ছে একটি দেহের মতো, যারা একে
অপরকে শক্তিশালী করে। কিন্তু বিষয়টা
এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন, আল-ইব্রিয়্যাহ
(হিব্রু) গণকরা “জিহাদের ইহুদীদের”
মোহগ্রস্ত করে ফেলেছে, এই পর্যায়ে যে
তারা এদের মন্ত্রসমুহ আওড়াতে লাগলো
এবং তাদের মিথ্যা সমূহকে বিশ্বাস
করলো।
মাগরিবের আল-কায়দার চিঠি পত্রের
আর্কাইভ থেকে আমার কাছে একটি চিঠি
পৌঁছেছে, যা ১৪৩৫ হিজরির রমাদান মাসে
উত্তর আফ্রিকার “জিহাদের ইহুদীদের
বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি” (আবু ‘ইয়াদ আত-
তিউনিসী) খোরাসানের “জিহাদের
ইহুদীদের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি” (আয-
যাওয়াহিরি) এর প্রতি লিখেছিল, যাতে
বলা হয়েছে:
“শামে ফিতনা’র দুঃস্বপ্নের পর পরিস্থিতি
কোথায় পৌঁছেছে তা আপনার অজানা নয়,
যা খিলাফাহ’র ঘোষণার পর চরম পর্যায়ে
পৌঁছে গেছে। আমি এই বিষয়ে আপনার
সাথে কথা বলতে পছন্দ করছি না, বরং যে
মারাত্মক দুর্যোগ এই উম্মাহ’র উপর আপতিত
হয়েছে, যার ব্যাপারে অনেক ভাইগন
পূর্বেই আলোচনা করেছিলেন, আমাকেও
তাই বলা উচিত। বরং আমি পছন্দ করছি এই
সমস্যার একটি সমাধান প্রস্তাব করতে
যাতে এর মোকাবেলা করা যায়, কারণ
আমরা পছন্দ করি বা না করি, এটি এমন
একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে যা আর
কোন ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এবং
তা এমন এক বন্যায় পরিণত হয়েছে যা পূর্ব-
পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সব জায়গায়
জিহাদের ক্ষেত্রের ভিত্তিমূল হিসেবে
স্থান করে নিচ্ছে।” তারপর সে বলে,
“জিহাদের অনুসারীদের মধ্যে অজ্ঞতার
প্রসার এবং এর সদস্যদের মধ্যে আবেগের
প্রভাবের বিষয়কে বিবেচনা করে আমি এই
সংগ্রামের নেতাসমূহ এবং উলামাদের –
যাদের মধ্যে শায়খ আয়মান আয-
যাওয়াহিরি হচ্ছেন সবার আগে- জন্য এই
ঘোষণার ক্ষতিকারক দিককে লাভজনক
দিকে পরিণত করার জন্য কাজ করাকে
আবশ্যক মনে করছি।”
তারপর সে বলে, “হে প্রিয় শায়খ, আজ
একমাত্র আপনিই পারেন অভ্যন্তরীণ এবং
বাহ্যিক সমীকরণ গুলোকে পাল্টে দিতে;
অভ্যন্তরিনভাবে এই আন্দোলনের
সন্তানদের মধ্যকার অনৈক্যের সমাধান
করে এবং বাহ্যিক ভাবে বিশ্বের “কাফির
এবং মুসলিমদের” সামনে নেতৃত্ব
পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এবং আমি আপনাকে
দ্রুত আল-বাগদাদীর প্রতি বাইয়াহ ঘোষণার
পরামর্শ দিচ্ছি যাতে আপনি এই বিষয়ে
হস্তক্ষেপ করতে পারেন”।
তারপর এই বাইয়াহ’র উদ্দেশ্য সম্পর্কে
পরামর্শ দিয়ে সে বলে, এটা হলো “পথকে
সংশোধন এবং বর্ধনশীল ফাসাদকে
সংস্কার করা।” তারপর সে আরও বলে,
“ভিতর থেকে সংশোধন করা ছাড়া
আমাদের কাছে আর কোন উপায় বাকি
নেই।”
তারপর সে দাবি করে দাওলাহ’তে আয-
যাওয়াহিরির অনুপ্রবেশ হবে “দাওলাহ’র
ভিতরে চরমপন্থিদের দাবিয়ে রাখা এবং
ভালো লোকদের শক্তিশালী করা।” “আমার
দৃষ্টিতে আপনার প্রবেশ আল-আদনানীর
অবস্থানকে খর্ব করবে, যার চারিপাশে
চরমপন্থিরা জমায়েত হয়েছে, যে তারপর এ
ব্যাপারে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা
করতে শুরু করেছে। হে শায়খ, এই বিষয়টিতে
আপনার অনুপ্রবেশ জিহাদের সকল
ক্ষেত্রের ফিতনাকে রুখে দিবে। বরং, তা
জিহাদের ক্ষেত্রগুলোকে শক্তিশালী
করবে এবং তরুণদের মধ্যে পুনর্মিলন
ঘটাবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আপনার
প্রবেশ তাকফির ও তাবদি’ এর উৎসাহকে
থামিয়ে দিবে এবং তরুণদের ঐ পথে
পরিচালিত করবে যা উম্মাহ’র জন্য
কল্যাণকর।”
তারপর সে আয-যাওয়াহিরিকে বলে, “হে
শায়খ, আপনার প্রবেশ মাগরিব আল-
ইসলামের সারী সমূহের ঐক্যকে দৃঢ় করবে,
যার বিপুল সংখ্যক তরুণ দাওলাহ’র দিকে
ঝুঁকে পড়েছে। এতে এই অঞ্চলের তরুণরা –
যাদের বৈশ্বিক জিহাদের জন্য রিজার্ভ
হিসেবে মনে করা হয়– শায়খ ‘আব্দুল-
ওয়াদুদ এর নেতৃত্বের পিছনে সারী বদ্ধ হয়ে
জড়ো হবে।” এবং সে বলে, “হে শায়খ,
আপনার প্রবেশ ইয়েমেনে আশ-শায়খ
নাসির আল-উহাইশীর নেতৃত্বে
মুজাহিদিনগণের ঐক্যের এক অভূতপূর্ব
উদাহরণের সৃষ্টি করবে… এবং একইভাবে,
আল্লাহর ইচ্ছায় অন্যান্য জায়গাতেও,
বিশেষ করে (এটা ভালো হবে) এই কারণে
যে, তাদের নেতৃত্ব ন্যায়-সঙ্গতার মানহায
এবং সুন্নাহ’র প্রতি অধিক অনুগত, যা
চরমপন্থি মানহাজ এবং এর অনুশীলন থেকে
অনেক দূরে।”
তারপর সে দাবি করে যে, সে এই
পরিকল্পনা একমাত্র এই কারণেই প্রস্তাব
করেছে যাতে “এই মানহাযের ইতিহাসের
প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা যায় এবং যাতে
জাহেল ও চরমপন্থিদের এই মানহায নিয়ে
খেলা করাকে বন্ধ করা যায়।” এবং “এই
বিশ্বাসে যে, এই বিষয়ে তার
(যাওয়াহিরির) অনুপ্রবেশ ফিতনা’র
বন্যাকে বন্ধ করবে বা হ্রাস করবে, পবিত্র
রক্তকে প্রবাহিত হওয়া থেকে রক্ষা করব
এবং এর পবিত্রতাকে অমর্যাদা থেকে
রক্ষা করবে।”
তারপর সে মন্তব্য করে, “হে প্রিয় শায়খ,
আমি (এ বিষয়ে) মাগরিব আল-ইসলামের
নেতৃত্বের মধ্য থেকে আমার ভাইদের সাথে
পরামর্শ করেছি” এবং সে আরও পরামর্শ
করেছে, “লিবিয়ায় আনসার আশ-
শারী’আহ’র নেতা শায়খ মোহাম্মাদ আয-
যাহাওয়ী এবং তার সামরিক কর্মকর্তার
সাথে এবং তারা এই প্রস্তাবকে অনুমোদন
করেছেন।”
এবং সে “তিউনিসিয়ায় আনসার আশ-
শারী’আহ’র আমির এবং মাগরিব আল-
ইসলামের আল-কায়দার শারী’আহ কমিটির
সদস্য” এর স্বাক্ষর উল্লেখ করে তার
বার্তার সমাপ্তি টানে। সাথে এটাও
লিখে দেয়, “একটি কপি পাঠানো হোক
শায়খ আবু মোহাম্মাদ (আল-মাকদিসি)
{আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন} এবং তার
পক্ষ হতে শায়খ আবু কাতাদাহ (আল-
ফিলিস্তিনি) {আল্লাহ তাকে হেফাজত
করুন} এর কাছে, এই প্রত্যাশায় যে, তারা
এই বিষয়ে প্রবেশ করবেন, বরং একে নেতৃত্ব
দিবেন… এবং এক কপি ইয়েমেনে শায়খ
নাসির আল-উহায়শী এবং ক্বারনুল
আফ্রিকায় শায়খ আবুজ-জুবায়েরের কাছে
পাঠানো হোক।” সাথে সাথে সে মালিতে
তার অনুসারীদের কাছেও এক কপি পাঠায়।
তাছাড়া, উত্তর আফ্রিকায় তার সাথের
কিছু “জিহাদের ইহুদীদের” কর্তৃক আয-
যাওয়াহিরির কাছে প্রেরিত আরেকটি
চিঠিতে বলা হয়: “শায়খ আবু ‘ইয়াদের
প্রস্তাবের পর, আমরা পদক্ষেপটির
ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করেছি এবং
আমরা মনে করি আমাদের উপর যে দুর্যোগ
এবং উম্মাহর উপর যা আপতিত হয়েছে তার
জন্য তা (এই পদক্ষেপ) উপযুক্ত। এবং তা
শারী’আহ সম্মত কোন সমাধান নয় যার
দিকে উম্মাহর ফিরে আসা ফরজ। বরং তা
হলো একটি “মাসলাহা” যার দ্বারা আমরা
আমাদের ভাইদের বক্তব্যসমূহকে ঐক্যবদ্ধ
করতে পারবো এবং অন্যান্য সকল ভূমিকে
গ্রাস করার পূর্বেই এই ফিতনাহ’র অবসান
ঘটাবো। এবং আপনি আয-যাওয়াবিরির
সময়কে প্রত্যক্ষ করেছেন, আর এটা হচ্ছে
সেই একই পরীক্ষণ যার পুনরাবৃত্তি করা
হচ্ছে। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে,
তিউনিসিয়ার অধিকাংশ তরুণরাই
দাওলাহ’র প্রতি বাইয়াহ প্রদান করেছে।
এবং লিবিয়ার অনেক তরুণই এর সমর্থক।
সম্প্রতি আমাদের কানে এসেছে যে
(আফ্রিকার) কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি
ব্যাটেলিয়ান দাওলাহ’র প্রতি বাইয়াহ
প্রদান করেছে। আমার ভাই, বিষয়টা এমন
এক মোড় নিয়েছে যে, একটি দ্রুত পদক্ষেপ
নেয়া ছাড়া আমাদের আর দ্বিতীয় কোন
উপায় নেই, যাতে এই ফিতনা’কে বন্ধ করা
যায় এবং এর ঘটনা প্রবাহকে জিহাদ এবং
মুজাহিদিনগণের জন্য উপকারী বিষয়ে
পরিণত করা যায় এবং উম্মাহকে উপকৃত
করা যায়। আপনি ভালো করেই জানেন,
আমরা দাওলাহ’র সমর্থক নই, আর না আমরা
এর হয়ে উকালতি করছি। বরং আমাদের
সমালোচনা করি এর চরমপন্থি আক্বিদাহ’র
ব্যাপারে, যা এর কর্মের মাধ্যমে এবং এর
সদস্যদের ব্যবহারে প্রকাশিত হয়েছে।
আমরা এই দলটিকে এর মানহায নিয়েই
বিস্তৃত হতে দেখেছি এবং এর সমর্থকের
সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অতঃপর আমাদের
সাথে থাকা তরুণদের যাতে হারিয়ে না
যায় এবং তারা যেন এই চরমপন্থি
অন্দোলনে প্রবেশ না করে, এজন্য শায়খের
এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করা ছাড়া আর
কোন উপায় ছিলো না, এই কারণে নয় যে,
তিনি আমাদের যা প্রস্তাব করেছেন তা
একটি ভালো পন্থা, বরং তা এর কারণে
যে, এটি এমন একটি পরিকল্পনা যা
জিহাদের তরুণদেরকে আকর্ষণ করবে এবং
তাদেরকে তাদের নেতা এবং আলেমদের
দিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে, এই
ফিতনাহকে নিশ্চিহ্ন করবে, এর নেতা
আল-‘আদনানীর পায়ের নিচ থেকে
(নেতৃত্বের) গালিচাকে বের করে দিবে
এবং শায়খ আয়মানের উপর তাদের আস্থা
ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। এই সব কিছুর
ভিত্তিতে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে যে,
তা জিহাদের সাধারণ স্বার্থকে লাভবান
করবে। শায়খ আয়মান যদি এই সময় আল-
বাগদাদীর প্রতি বাইয়াহ প্রদান করেন
এবং আল-কায়দা দাওলাহ’র মধ্যে প্রবেশ
করে তাহলে নেতৃত্ব এর (আল-কায়দার)
লোকজনের দিকে ফিরে আসবে, এই
চরমপন্থি মানহায ধ্বংস হয়ে যাবে এবং
আমাদের মুজাহিদিন ও তরুণরা সুরক্ষিত
হবে এবং তারা তাদের উলামা এবং
নেতৃত্বের পথে ফিরে আসবে, তা যেই
নামেই হোক না কেন, এমনকি যদি তা
খিলাফাহ’র নামেও হয়, যা আল-‘আদনানী
ভুল সময়ে ঘোষণা করেছে।”
অতঃপর বার্তা সমূহ এবং এই ষড়যন্ত্রের
সারমর্ম হলো:
১) তারা আয-যাওয়াহিরিকে আল-কায়দার
সকল শাখা নিয়ে খিলাফাহ’র মধ্যে
অনুপ্রবেশ করার ষড়যন্ত্র উপস্থাপন করেছে।
২) তারা খিলাফাহ’র ভিতরে অবস্থান করে
“চরমপন্থা”কে মোকাবেলা করবে, এর
মানে তারা কোরআন এবং সুন্নাহ কর্তৃক
প্রতিষ্ঠিত তাকফিরের ব্যাপারে
খিলাফাহ’র মানহাযকে মোকাবেলা
করবে।
৩) “তারা সংস্কার নিয়ে আসবে” অর্থাৎ
তারা যাওয়াহিরির নীতি এবং
গোমরাহীকে প্রচার করবে, যেমন রাফিদা,
কবর-পূজারী, দেউলিয়া ইখওয়ানী এবং
সাহাওয়াতদেরকে মুসলিম মনে করা এবং
তাদের সাথে সমঝোতা, তাদের
তোষামোদ করা এবং তাদের সন্তুষ্ট করার
চেষ্টা করা ইত্যাদি।
৪) তারা ভিতরে ভিতরে যাওয়াহিরির
অনুগত দলগুলোর পতাকা সমূহকে উত্তলিত
করবে যেমন: আল উহাইশী, ‘আব্দুল ওয়াদুদ
এবং অন্যান্যদের। আর জিহাদের তরুণদের
তাদেরকে ভক্তি এবং অনুসরণ করাবে।
৫) তারা লিবিয়া, মালি, তিউনিসিয়া,
ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং জর্ডানে
তাদের দলগুলোর নেতাদের এই ষড়যন্ত্রের
ব্যাপারে অবগত করেছে।
৬) যদিও তারা বিশ্বাস করে যে, তাদের
এই ষড়যন্ত্র শারী’আহকে লঙ্ঘন করবে,
তদুপরি তারা এর মধ্যে মাসলাহা (সুবিধা)
দেখতে পায়।
৭) তারা এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আল-
কায়দার শক্তিকে জোরদার করবে এবং
“উম্মাহ” এবং “উলামাদের” শক্তিকে
জোরদার করবে অর্থাৎ সুরুরিয়্যাহ’র
“উম্মাহ”, এর “উলামা” এবং এর সংঘটনকে
(আল-কায়দাকে) জোরদার করবে, সেটা
অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক ভাবে উভয়
ভাবেই।
{আর তারা ষড়যন্ত্র করে তেমনি আল্লাহও
কৌশল করেন, বস্তুতঃ আল্লাহর সর্বোত্তম
কুশলী।} [আল-আনফাল: ৩০]। আর তাই তারা
মুওয়াহ্যিদ মুজাহিদদেরকে এই ফাঁদে
ফেলতে সক্ষম হয় নি, কিন্তু কিছু সংখ্যক
“জিহাদের ইহুদীরা” এর থেকে ফায়দা
লুটেছে যখন মানুষ দলে দলে খিলাফাহ’তে
যোগদান করেছে, যাতে তারা তাদের
“ইহুদী তত্ব” নতুনভাবে পরীক্ষা করতে
পারে। অতঃপর তারা তাদের কিছু সংখ্যক
সমর্থকদের দাওলাহ’র সারীতে প্রবেশ
করালো যাতে পরবর্তীতে তাদের
ফিরিয়ে আনা যায় এবং বলা যায়, “হে
লোক সকল, আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করার
পর তাদের গোমরাহ এবং ফাসাদগ্রস্থ
হিসেবেই পেয়েছি!” আর ইয়েমেনের আল-
কায়দা এটাই চেষ্টা করছে তাদের নতুন
মিডিয়া ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এবং আর
অনুসরণ করছে শামে তাদের অগ্রদূত
বিশ্বাসঘাতক মুরতাদ আল-জাওলানীর
“আল-বাসিরাহ” ফাউন্ডেশনের প্রতিটি
পদক্ষেপ।
এবং “ই’তিজালের” এই ঘটনা হলো এই
ষড়যন্ত্রের একটি পর্ব মাত্র, এই দলের
নেতা ছিলো ফিতনাহগ্রস্থ এক জাহেল
“আবু খাইবার আস-সোমালী”, যখন ইয়েমেনে
আয-যাওয়াহরির প্রচারক (আল-ওহাইশী)-
সোমালিয়ার আয-যাওয়াহিরির
প্রচারককে তার ব্যাপারে সুপারিশ করে,
তখন সে ইয়েমেনে আসে। তারপর সে
খিলাফাহ’র সারীতে প্রবেশ করে এবং
জিহাদের ময়দানে ফিতনাহ-সৃষ্টিকারী
তার পূর্বপুরুষদের পথ অনুসরণ করে ফিতনাহ
ছড়াতে শুরু করে। অতঃপর সে তার মতামত
কিংবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া জিহাদের
পরিচালকদের যেকোন বিচারকে
“নবুয়্যাতের মানহাযের” লঙ্ঘন বলে
বিবেচনা করলো, আর যেটাই তার মতামত
এবং ইচ্ছা সম্মত হয় তাকেই “নবুয়্যাতের
মানহায” বলে দাবি করলো, ঠিক শামের
আবু শুয়াইব আল-মাসরীর মতো (এই
কার্টুনিস্ট “শার’ঈ” হামাহ এর যুদ্ধে
নুসাইরী নারীদের হত্যা করাকে এবং
তাদেরকে দাসী হিসেবে আটক না করাকে
“আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য বিধান দ্বারা
শাসন” বলে মনে করেছিলো।)
অতঃপর যখন নেতৃত্ব থেকে তার
মাত্রাতিরিক্ত ফিতনাহ এবং উস্কানির
কারণে তাকে শাস্তি প্রদান করলেন এবং
তার তাযকিয়ার ব্যাপারে পুনঃঅনুসন্ধান
করার আদেশ দেন, তখন সে খুব দ্রুত তানযীম
আল-কায়দার শয়তানদের কর্তৃক রূপায়িত
সেই চক্রান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা
করলো, তারা (তানযীম আল-কায়দার
শয়তানেরা) তার রক্তে প্রবাহিত –তা সে
উপলব্ধি করুক বা নাই করুক। আর এটা
করেছিল নরম হৃদয়ের কিছু ব্যক্তিদের সাথে
কথা বলার পর যারা তানযীম আল-কায়দার
দ্বারা প্রতারিত হয়ে আসছিল। অতঃপর সে
কিছু লোকদের মধ্যে তার বার্তার ছড়ালো,
যাদের হৃদয় চরম ইরজা এবং পদ-মর্যাদা ও
ব্যক্তিমতের মূর্তির দ্বারা প্রভাবিত এবং
চারটি বিষয়কে তারা আহ্বানের
(দাওয়াতের) মূল বিষয়-বস্তু বানালো:
১) (দাওলাতুল ইসলামের) নেতারা
“আল্লাহর বিধানকে” প্রত্যাখ্যান
করেছেন। অন্য কথায়, নেতৃত্ব মুরতাদদের
উপর বিধান সম্পর্কিত ঐসব মতামত
প্রত্যাখ্যান করেছেন যেগুলো মুরজিয়াহ
এবং জাহমিয়্যাহদের প্রবৃত্তির সাথে
মিলে যায়। এবং তা এমন ছিল যেন, এই
সুবহাহ (বিপথে পরিচালনাকারী সন্দেহ)
শামে আয-যাওয়াহিরির প্রচারক আল-
জাওলানী, আশ-শামী এবং আল-
মুহাইসিনীর কাছ থেকে এসেছে।
২) ভাইদের শাহাদতের জন্য নেতারাই
দায়ী। অন্য কথায়, এই ফিতনাহ
সৃষ্টিকারীরা মুনাফিকদের ঐ বক্তব্যেরই
পুনরাবৃত্তি করলো, {যদি তারা আমাদের
কথা শুনত, তবে নিহত হত না।} [আল-‘ইমরান:
১৬৮] এবং {তারা যদি আমাদের সাথে
থাকতো, তাহলে মরতোও না আহতও
হতো না।} [আল-‘ইমরান: ১৫৬]। এবং তা এমন
ছিলো যেন এই সুবহাহ দারা’আয় আয-
যাওয়াহিরির প্রচারক আল-হারারী, আল-
কুয়েতি এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে
এসেছে যারা দাবি করতো যে ‘আইন আল-
ইসলামে মুজাহিদিনগণকে নিশ্চিত মৃত্যুর
দিকে প্রেরণ করা হচ্ছে! তাহলে এর মানে
কি একজন মুজাহিদকে পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করে
পালানো উচিৎ?
৩) নেতারা তাদের উপর জুলুম করেছেন।
অন্য কথায়, তারা অবাধ্য এবং ফিতনা
সৃষ্টিকারীদের শাস্তি প্রদান করেছেন। এই
লোকগুলো এমন এক খিলাফাহ চায়
যেখানে কারও প্রতি কোন শোনা বা
আনুগত্য করার দরকার নেই এবং প্রত্যেক
সৈন্য তার প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষা অনুসারে
সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৪) নেতারা তাদের মতামত জোরপূর্বক
তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। অন্য কথায়,
কোন সাধারণ ইজতিহাদের বিষয়ের
ব্যাপারে তাদের মতামত… বরং, এমন বিষয়
যার ব্যাপারে কোন মতানৈক্য থাকা ঠিক
নয়!
অতঃপর উপরোক্ত বিষয় সমূহের ভিত্তিতে
তারা দাবি করলো যে, ওয়ালী নবুয়্যাতের
মানহাযের উপর প্রতিষ্ঠিত নন এবং তার
আনুগত্য করা জায়েজ নয় এমনকি ফরজে
আইন –যেমন আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা-
এর ব্যাপারেও!
তারপর তারা হাকিম আল-মুতাইরী (আয-
যাওয়াহিরির আল-কায়দার “পরিচালক”) এর
মতোই একটি ঘোষণা নিয়ে আসলো। তারা
‘উবাদাহ আস-সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
এর একটি বর্ণনা থেকে একটি উদ্ধৃতি নিয়ে
আসলো এবং তাকে এমন জায়গায় ব্যবহার
করলো যা আসলে তা নির্দেশ করে না।
তারা একে একটি সুবহাহ বানালো যাতে
তাদের অবাধ্যতাকে, তাদের
সীমালঙ্ঘনকে এবং তাদের খুরুজকে
ন্যায্যতা প্রদান করা যায় এবং তারা এই
ব্যাপারে অন্যান্য সাহাবাগণ এবং
সালাফগণের বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করলো যে
বিষয়গুলো খুবই পরিষ্কার এবং সর্বজন
বিধিত, এমনকি জ্ঞান অন্বেষণকারী
একজন সাধারণ ছাত্রও আক্বিদাহ’র
ব্যাপারে আসারী (দলিল-ভিত্তিক)
কিতাব সমূহ যেমন ইবন আবি ‘আসিম,
‘আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন হানবাল, আল-
খাল্লাল, আল-লালিকা’ই, আল-বারবাহারী,
ইবন বাত্তাহ এবং অন্যন্য কিতাব সমূহে
খুঁজে পাবে। এই ব্যাপারে তারা বিদআতি
লোকদের মতো অস্পষ্ট অর্থ সম্বলিত বাণী
সমূহ বর্ণনা করলো যা তাদের পক্ষে যায়
এবং তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া পরিষ্কার
দলিল সমূহকে অগ্রাহ্য করলো।
তদুপরি, অবাধ্যদের বলা হয়েছিলো, যদি
তাদের বক্তব্যকে সঠিক মনে করা হয়
তারপরেও ‘উবাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই
বক্তব্য খিলাফাহ’র যুদ্ধের যুগে বলেছিলেন
তখন কি অধিকাংশ জিহাদ আত্মরক্ষামূলক
ছিল? অথবা সেটা কি এমন এক যুগ ছিল যখন
এর মধ্যে কোন রিদ্দাহ ছিলো না? বা
মুশরিকরা কি খিলাফাহ’র ভূমিতে
আগ্রাসন চালিয়েছিল নাকি মুসলিমরাই
পারস্য আর রোমে আক্রমণ করেছিলেন?
এবং ‘উবাদাহ কি বলেছিলেন “হে নেতা,
আমি তোমার আনুগত্য করবো না, হউক তা
কোন ফরজে আইন বা আমাদের উপর ইমাম
কর্তৃক নির্ধারিত কোন ব্যক্তি?” তিনি কি
মুসলিমদের মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
কে ইমাম কর্তৃক নিয়োগ কৃত ব্যক্তি সমেত
দ্বীনের দায়িত্ব সমূহের ব্যাপারে তার
আদেশ সমূহকে পরিত্যাগ করার জন্য আহ্বান
করেছিলেন? তিনি কি তার নেতাদের
অমান্য করে শামের ভূমি ত্যাগ
করেছিলেন? তিনি কি তার নেতাদের
অমান্য করে শামের ভূমি ত্যাগ
করেছিলেন? তাহলে কি এই বর্ণনাকে
তাদের অবাধ্যতার দলিল হিসেবে গ্রহণ
করা সঠিক?
এবং খালিফাহ (হাফিযাহুল্লাহ) কি তার
নিয়োগ কৃত ওয়ালীকে গুনাহের কাজে
আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন যে
তাদের এই হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়ার
প্রয়োজন পড়লো, “অতঃপর যে তাদের মধ্যে
প্রবেশ করলো এবং তাদের মিথ্যাকে
বিশ্বাস করলো এবং তাদের জুলুমে
সহায়তা করলো, সে আমার মধ্য থেকে নয়
এবং আমি তার মধ্য থেকে নই”?
তদুপরি, বাইয়াহ কি শুধুমাত্র কোন বাহ্যিক
এবং ছবিসদৃশ কোন বক্তব্য যার কোন
বাস্তবিক প্রয়োগ, ফলাফল বা বিধান নেই?
কারণ তারা দাবী করে যে তারা
খলিফাহ’র প্রতি বাইয়াহ প্রদান করেছে
এবং একই সাথে তারা অন্যদের
খালিফাহকে ছেড়ে তাদেরকে বাইয়াহ
দেয়ার আহ্বান জানায়! হ্যাঁ, তারা অনুধাবন
করুক আর না করুক বাস্তবিকই তারা
অন্যদেরকে তাদের প্রতি বাইয়াহ
প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে, কারণ
উলাত, কাজী, নেতা এবং ইমাম নিয়োগ
করা এবং সাধারণ ইজতিহাদী বিষয় সমূহে
তাঁর মতামতের ব্যাপারে –অন্য কারও মত
নয়- সাধারণ লোকদের বাধ্য করার অধিকার
একমাত্র তাঁরই (খলিফাহ’র) আছে, তার
অনুসারীদের নয়। তার চেয়েও বিশ্রী বিষয়
হলো যে, এই দল লোকদেরকে খলিফাহ
কর্তৃক নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের অমান্য করার
জন্য আহ্বান করে, যাতে তার অনুসারীরা
তাঁকে তাঁর দায়িত্ব পালনে সাহায্য না
করে। এভাবেই একটি দেহ থেকে এর হাত
কেটে দেওয়া হয়। এভাবেই ইমামের আদেশ
বাস্তবায়িত হবে না এবং তার কর্তৃত্ব
বিস্তার লাভ করবে না। তদুপরি,
জামা’আহ’র মাধ্যমে দ্বীনের বিধান সমূহ
প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং আল্লাহর নির্দেশ
অনুসারে জামা’আতকে আঁকড়ে ধরে রাখাও
হবে না! তাদের সাথে (উমার) আল-ফারুক
(রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর সেই বক্তব্যের
সাথে কোথায় মিল আছে, “জামা’আহ
ছাড়া কোন ইসলাম নেই, নেতৃত্ব ছাড়া কোন
জামা’আহ নেই এবং আনুগত্য ছাড়া কোন
নেতৃত্ব নেই।” [সুনান আদ-দারিমি]
তাহলে কি এই দলের আহ্বান ‘উবাদাহ’র
বক্তব্যের সাথে মিলে যায়? নাকি তা
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সেই বক্তব্যের ভিতর পড়ে, “নিশ্চয়ই
ফিতনাহ সমূহ আসবে, অতঃপর যদি কেউ
ঐক্যবদ্ধ থাকা অবস্থায় উম্মতের বিষয়
সমূহকে বিভক্ত করতে চায়, তাহলে তাকে
তরবারি দ্বারা আঘাত করো, সে যেই হোক
না কেন।” এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন, “যখন
কেউ তোমাদের কাছে আসে যখন
তোমাদের বিষয়াদি এক ব্যক্তির অধীনে
আছে এবং সে তোমাদের শক্তিকে
ভাঙ্গার চেষ্টা করে বা তোমাদের
জামা’আহকে বিভাজিত করার চেষ্টা
করে, তাহলে তাকে হত্যা করো।” এবং
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) আরও বলেন, “যদি দুই খলিফাহ’র
প্রতি বাইয়াহ প্রদান করা হয়, তাহলে
যাকে শেষে বাইয়াহ দেয়া হয়েছে তাকে
হত্যা করো!”
এবং যদি বলা হয় যে, তারা ইমামের
বিরুদ্ধে “খুরুজ” করে নি, তাহলে আমি
তাদের এই বলে জবাব দিবো যে, তারা
তার (খলিফার) সাথে সেই সব সুনির্দিষ্ট
অধিকার নিয়ে প্রতিযোগিতা করেছে,
যেগুলো ছাড়া ভূমিতে কখনই খিলাফাহ
বাস্তবায়িত হতো না। এবং তারা নির্লজ্জ
ভাবে লোকদেরকে তাদের গোমরাহীর
দিকে আহ্বান করেছে এবং তারা এসব
করেছে তাকে বাইয়াহ প্রদান করার পর
এবং তাকে তাদের আনুগত্যের হাত
বাড়িয়ে দেওয়ার পর। আর খলিফাহ যদি
তাদের কর্ম সমূহের ব্যাপারে সম্মত হতেন –
বস্তুত তিনি এই কাজ থেকে অনেক দূরে-
তাহলে তা ঐসব ফিতনাহ-সৃষ্টিকারীদের
এমন সুযোগ করে দিতো যার ফলে তারা
খিলাফাহ’র উলাইয়াত সমূহে প্রত্যেক
ওয়ালীর বিরুদ্ধে “খুরুজ” করতো এবং
লোকদেরকে তাকে অমান্য করার জন্য
আহ্বান করতো এবং মিথ্যার সাথে দাবি
করতো যে, সে শুধুমাত্র ই’তিজাল করছে,
কোন ফাসাদ সৃষ্টি নয়। খিলাফাহ কি
কনস্টান্টিনোপল এবং রোম পর্যন্ত
পৌঁছাবে যদি ইমাম ঐসব ব্যক্তি বিশেষের
অবাধ্যতার ব্যাপারে সম্মত হন? বরং,
খিলাফাহ কি এর সীমান্ত এবং শাসনাধীন
এলাকা সমূহকে ধরে রাখতে পারবেন যদি
তারা (ফাসাদ সৃষ্টিকারীরা) যা ইচ্ছা
তাই পেয়ে যায়?
আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি
যেন হৃদয়ে অণু পরিমাণ মঙ্গল থাকা
লোকদেরও সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আর
“জিহাদের ইহুদীদের” মধ্যে যারা এখনও
তাদের ব্যক্তিমতের মোহে পড়ে আছে,
নিজেদের মর্যাদার জন্য প্রতিযোগিতা
করছে এবং আখতার (মানসুর) ও
যাওয়াহিরির গোমরাহী নিয়ে সন্দেহ
পোষণ করছে, আল্লাহ যেন আমাদের
তাদের থেকে দূরে রাখেন।
আবু মাইসারাহ আশ-শামী
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুনpdf

Advertisements