তালিবান’দের আমীর মোল্লা মুহাম্মাদ ‘উমার এবং “ইসলামিক স্টেইট”-এর খালীফাহ ইবরাহীম আমীরুল মু’মিনীন শাইখ আবু বকর বাগ্বদাদী আল- ক্বুরাইশী’র (হাফিযাহুল্লাহ) মধ্যে মিল এবং অমিল

পশ্চিমা মিডিয়া’গুলো তালিবান’দের
আমীর মোল্লা মুহাম্মাদ ‘উমার এবং
“ইসলামিক স্টেইট”-এর খালীফাহ
ইবরাহীম আমীরুল মু’মিনীন শাইখ আবু
বকর বাগ্বদাদী আল-ক্বুরাইশী
(হাফিযাহুল্লাহ)’র মধ্যে মিল খোঁজার
চেষ্টা করছে। আমেরিকা’র
নিউজপেপার’গুলো বলছে, “ইসলামিক
স্টেইট” হচ্ছে তালিবান’দের মতো,
কারন তারা অল্প সময়ে অনেক অঞ্চল
দখল করেছে এবং তাদের সময়ের
ক্ষয়িষ্ণু সরকারের দুর্বলতার কারনে।
যদিও তাদের মধ্যে কিছু মিল আছে,
তবে ততটা নয় যতটা পশ্চিমা মিডিয়া
দেখাতে চাচ্ছে।
(১) “ইসলামিক স্টেইট”-এর খালীফাহ
ইবরাহীম আমীরুল মু’মিনীন শাইখ আবু
বকর বাগ্বদাদী আল-ক্বুরাইশী
(হাফিযাহুল্লাহ) বাগদাদ ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারী’য়াহ বিষয়ে
Ph.D করা উচ্চ শিক্ষিত স্কলার, যেখানে
মোল্লা মুহাম্মাদ ‘উমারের তুলনা চলে
না।
(২) মোল্লা মুহাম্মাদ ‘উমার কখনও খিলাফাহ
ক্বায়িম করেননি এবং তার বক্তব্য শুধু
পাকিস্থান-আফঘান বর্ডার সংলগ্ন পশতুন
গোত্রীয়’দের জন্য। কিন্তু
“ইসলামিক স্টেইট”-এর খালীফাহ
ইবরাহীম আমীরুল মু’মিনীন শাইখ আবু
বকর বাগ্বদাদী আল-ক্বুরাইশী
(হাফিযাহুল্লাহ) খিলাফাহ ক্বায়িম করেছেন
গোটা দুনিয়া’র মুসলিম’দের জন্য।
(৩) আমেরিকা ইরাক দখলের পর শাইখ
আবু বকর বাগ্বদাদী আল-ক্বুরাইশী
(হাফিযাহুল্লাহ)’কে আমেরিকা’র বিরুদ্ধে
জিহাদ করবার অভিযোগে(!) ৩বছর
জেল খাটতে হয়। কিন্তু মোল্লা
মুহাম্মাদ ‘উমার-কে কখনই জেলে
থাকতে হয়নি।
(৪) তালিবান’দের পরে অর্থাৎ ২০০৪
সালে আমেরিকা’র বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু
করা সত্ত্বেও আজ থেকে ৩ বছর
আগে ২০১১ সালেই আমীরুল
মু’মিনীন শাইখ আবু বকর বাগ্বদাদী
আল-ক্বুরাইশী’র সুযোগ্য
নেতৃত্বেই আল্লাহ’র ইচ্ছায় ও
সাহায্যে ইরাকের মাটি থেকে কাফির
সর্দার বিশ্ব পরাশক্তি আমেরিকা’কে
অপমানজনকভাবে লেজ গুটিয়ে
পালাতে বাধ্য করতে পেরেছে
“ইসলামিক স্টেইট”-এর মুজাহিদীন
আর্মি, যা তালিবান’রা ২০০১ সালে
আমেরিকা আফগানিস্থান দখলের পর
এখনও পরিপূর্ণভাবে আফগানিস্থান
স্বাধীন করতে পারে নাই মোল্লা
মুহাম্মাদ উমার এর নেতৃত্বে।
(৫) তালিবান’দের সাথে একসময়
আমেরিকা’র ভাল সম্পর্ক ছিল।
আফঘানিস্থানে তালিবান’রা আমেরিকার
অর্থায়নে একটি গ্যাস পাইপলাইন
প্রজেক্টে কাজ করেছে। কিন্তু
শাইখ আবু বকর বাগ্বদাদী আল-
ক্বুরাইশী (হাফিযাহুল্লাহ) ২০০৩ সালে
আমেরিকা’র ইরাক দখলের পর
থেকেই আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করেছেন।
(৬) তালিবান’রা রাষ্ট্র ক্ষমতা নেয়ার সাথে
সাথেই স্বীকৃতি দেয় খাদেমাইন
কাফিরুন আল-সালুল সৌদি আরব কিন্তু
“ইসলামিক স্টেইট”-কে স্বীকৃতি দেয়
নাই। কারন আল-খিলাফাহ “ইসলামিক
স্টেইট”-এর মতে সৌদি আরব সরকার
হচ্ছে আমেরিকার পা চাটা দালাল।
(৭) মোল্লা মুহাম্মাদ ‘উমার মিডিয়া’র
সামনে বক্তব্য দেন নাই, কিন্তু
খালীফাহ ইবরাহীম আমীরুল মু’মিনীন
শাইখ আবু বকর বাগ্বদাদী আল-
ক্বুরাইশী (হাফিযাহুল্লাহ) তার অডিও (এবং
সাম্প্রতিক ভিডিও) বক্তব্য সবসময়ই
উম্মাহ’র সামনে তুলে ধরে আসছেন,
ফলে তিনি আমাদের কাছে
পরিষ্কারভাবে সুপরিচিত। কিন্তু একটি আন-
অফিসিয়াল অস্পষ্ট ছবির মোল্লা মুহাম্মাদ
‘উমার উম্মাহ’র অনেকের কাছেই
এখনো রহস্যে ঘেরা মানুষ।
(৮) তালিবান’রা “আঘাত করে লুকানো”
এই নীতি অনুসরন করে কিন্তু আল-
খিলাফাহ “ইসলামিক স্টেইট”-এর
মুজাহিদীন আর্মি “আঘাত করে
লুকানো” এই নীতি এখন আর অনুসরন
করেন না। তারা সামনাসামনি দিনে-রাতে
যুদ্ধ করেন।
(৯) তালিবান’রা অনেক সময় নিয়েছে
একটি ইসলামী ইমারাহ ক্বায়িম করতে,
কিন্তু “ইসলামিক স্টেইট” অনেক দ্রুত
পূর্নাংগ রাষ্ট্র ব্যবস্থা ক্বায়িম করেছেন।
তারা দ্রুত পাসপোর্ট ইস্যু করছেন,
পুলিস ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন,
নাগরিক’দের জন্য পরিচয় পত্র দিচ্ছেন,
এমনকি যানবাহনের জন্য স্বতন্ত্র
ট্রাফিক নাম্বার পর্যন্ত দেওয়া শুরু
করেছেন। এছাড়া সালাত ক্বায়িম, যাকাত
আদায়, জিয’ইয়া আরোপ, ইসলামি আদালত
স্থাপন, হদ-তা’যীর বাস্তবায়ন,
নাগরিক’দের মধ্যে সঠিক ইসলামী
আক্বিদাহ ভিত্তিক দাও’য়াহ-শিক্ষা ব্যবস্থা চালু
ইত্যাদি সকল ইসলামী বিষয়গুলো তো
রয়েছেই (আল’হামদুলিল্লাহ)!
(১০) তালিবান’দের কোন অর্থনৈতিক
ব্যবস্থা ছিল না, কোন আমদানি-রপ্তানি
ব্যবস্থা ছিল না এবং তারা জনগণকে কোন
প্রকার অর্থনৈতিক সাহায্য দিতে পারত না।
কিন্তু “ইসলামিক স্টেইট” ইতিমধ্যেই
তাদের জনগনের জন্য খাবার ও রেশন
বিতরণ, গ্যাস-পেট্রোল সরবরাহ শুরু
করে দিয়েছেন। খালীফাহ ইবরাহীম
ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ’দের দ্রুত
হিজরাতের আদেশ দিয়েছেন এবং যারাই
যাচ্ছেন তাদের’কে যথাযথভাবে
রাষ্ট্র গঠন ও উম্মাহ’র কাজে লাগানোর
প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হচ্ছে,
যাতে আগামী দিনে এই খিলাফাহ গোটা
মুসলিম উম্মাহ’কে তাওয়াগ্বীতের জুলুম
থেকে মুক্ত করে, পূর্বের
ইতিহাসের ন্যায় একটি বিশ্ব বিজয়ী একক
সুপার পাওয়ারে পরিণত হয় ও ইসলাম’কে
বিজয়ী দ্বীন হিসেবে দুনিয়ার প্রতিটি
প্রান্তে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়, যার
প্রতিশ্রুতি আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন
ও যার ভবিষ্যৎবাণী রাসূলুল্লাহ(সাঃ) করে
গেছেন।
পশ্চিমা মিডিয়া তাদের ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে
তালিবান’দের আমীর মোল্লা মুহাম্মাদ
‘উমার এবং আল-খিলাফাহ “ইসলামিক
স্টেইট”-এর খালীফাহ ইবরাহীম শাইখ
আবু বকর বাগ্বদাদী আল-ক্বুরাইশী
(হাফিযাহুল্লাহ)-এর মধ্যে মিল খোজার
চেষ্টা করছে, কারন তাদের জ্ঞান
হচ্ছে উপর থেকে দেখা পর্যন্তই।
ভেতরের খোজ নেয়ার প্রয়োজন
তারা বোধ করে না।

Advertisements