যুক্তরাজ্য থেকে আইএসের কাছে টাকা গেছে ঢাকা হয়ে

যুক্তরাজ্য থেকে আইএসের কাছে
টাকা গেছে ঢাকা হয়ে

image

image

সিরিয়ায় আইএসের প্রধান হ্যাকার সাইফুল হকের
(সুজন) গড়া আইব্যাকস-এর ঢাকা কার্যালয়কে
সন্ত্রাসবাদের জন্য অর্থ আদান-প্রদানের কাজে
ব্যবহার করা হতো। এই অভিযোগে পাঁচজনকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে
বিদেশ থেকে আসা ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের
সমপরিমাণ টাকাও উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের
গোয়েন্দারা।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ডেইলি মেইল ও
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস-এ ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত
খবরে বলা হয়, সাইফুল হক যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে
থাকা অবস্থায় বড় ধরনের অর্থ পাচারে যুক্ত
ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে যুক্ত ব্রিটিশ
গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে,
ওই দেশ থেকে কয়েক লাখ পাউন্ড (ব্রিটিশ
মুদ্রা) বাংলাদেশ হয়ে সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায়
মার্কিন জোটের বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার
প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা সূত্র
থেকে তথ্য পেয়ে বাংলাদেশের একটি
গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত
আইব্যাকস কার্যালয় এবং এর কর্মীদের ওপর
নজর রাখতে শুরু করে। পরে ওই কার্যালয়ের
সঙ্গে যুক্ত থাকা সাইফুলের বাবা আবুল হাসনাত,
ছোট ভাই হাসানুল হক ওরফে গালিব মাহমুদ,
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও সাইফুলের শ্যালক
তাজুল ইসলাম (শাকিল), হিসাবরক্ষক নাহিদ্দোজা মিয়াসহ
পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ
(ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা
উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের
বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগ এনে
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা দিয়েছে পুলিশ
(মামলা নং-২১, তারিখ- ০৯.১২.১৫)।
মামলায় বলা হয়, এঁরা সবাই জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয়
সদস্য ও সমর্থক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮
ডিসেম্বর রাতে কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের
পাশে বটতলা থেকে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার
করা হয়েছে। মামলায় সাইফুল ও তাঁর বড় ভাই
আতাউল হককেও (সবুজ) আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আবুল হাসনাত
পুলিশকে বলেছেন, তাঁর দুই ছেলে সাইফুল হক
ও আতাউল হক প্রবাসে থাকেন। তাঁরা বিদেশ
থেকে মতিঝিলের একটি মানি এক্সচেঞ্জের
মাধ্যমে আইব্যাকসের নাহিদ্দোজা মিয়ার কাছে
অর্থ পাঠায় জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। তাঁরা
একে অপরের সঙ্গে থ্রিমা ইনস্ট্যান্ট
মেসেজিং অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে
যোগাযোগ করতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের
যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম প্রথম
আলোকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগের প্রমাণ
মিলেছে। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা
হয়েছে।
২০০৫ সালে সাইফুলের গড়া আইব্যাকস-এর
ওয়েবসাইটে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের বাইরে
ঢাকা, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল।
কার্ডিফে এর প্রধান কার্যালয়। ঢাকা ও জর্ডানে
আলাদা অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত
খাবারবিষয়ক বিভিন্ন পোর্টাল আর ভ্যাট-ট্যাক্স এবং
জিপিএস-জিপিআরএস প্রযুক্তি সহায়ক অ্যাপস তৈরির
কাজ করেছে।
সাইফুল ২০১৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পর
তাঁর বন্ধু ও সহকর্মী কার্ডিফে পুরো ব্যবসা
পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। আবদুস সামাদও
একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। সিরিয়ায় বিমান হামলায়
সাইফুল নিহত হওয়ার পরদিন আবদুস সামাদকে আটক
করে যুক্তরাজ্য পুলিশ।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সংগঠনগুলোর সমিতি
বেসিসের সদস্যপদ (জি-২৮৭) নিয়ে বাংলাদেশে
পরিচালিত হয়েছে আইব্যাকস লিমিটেড। এর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন আতাউল হক। তিনি ছয়-
সাত মাস আগে স্পেনে গেছেন বলে তাঁর
ঢাকার বাসায় থাকা ছোট ভাই এহসানুল হক প্রথম
আলোকে বলেছেন।
সাইফুলের বাবা-ভাই, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও
হিসাবরক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ঢাকার
কারওয়ান বাজারে একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত
আইব্যাকস কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। সেখানকার
একজন নিরাপত্তাকর্মী প্রথম আলোকে বলেন,
গত মাসের শুরুর দিকে একদিন পুলিশ এসে তালা
ভেঙে কার্যালয়টি তল্লাশি করে এবং কিছু সরঞ্জাম
মামলার আলামত হিসেবে নিয়ে যায়। এরপর পুলিশ
দরজায় একটি তালা মেরে যায়।
 আইব্যাকসের প্রতিষ্ঠাতা আইএসের প্রধান
হ্যাকার সাইফুল হক
 যুক্তরাজ্য, ঢাকা, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান
ও যুক্তরাষ্ট্রে আইব্যাকসের কার্যক্রম ছিল
 ১০ ডিসেম্বর মার্কিন বিমান হামলায় সাইফুল নিহত
হওয়ার দুদিন আগে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের
সঙ্গে যুক্ত পাঁচজন গ্রেপ্তার। ৫০ হাজার মার্কিন
ডলারের সমপরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়।link

Advertisements