কম্পিউটার ক্লিন করার জন্য দীর্ঘদিনের পরিচিত CCleaner এর দিন শেষ! আজ থেকে ব্যবহার করুন এডভান্স nCleaner!! অগ্রগতির এই যুগে পিছিয়ে থাকলে কি চলবে?

কম্পিউটার ক্লিন করার জন্য দীর্ঘদিনের পরিচিত CCleaner এর দিন শেষ! আজ থেকে ব্যবহার করুন এডভান্স nCleaner!! অগ্রগতির এই যুগে পিছিয়ে থাকলে কি চলবে?

সানিম মাহবীর ফাহাদ

সবাইকে আমার আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি কম্পিউটার ক্লিন করার জন্য সর্বাধিক কার্যকর সফটওয়্যার নিয়ে আমার আজকের টিউন।

কম্পিউটারকে সব সময় দ্রুতগতির এবং পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমরা সাধারনত বিভিন্ন ইউটিলিটি সফটওয়্যার কিংবা সিস্টেম ক্লিনার সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অনেক কম্পিউটার এক্সপার্টদের মতামত হলো তথাকথিত ইউটিলিটি সফটওয়্যারগুলো কম্পিউটারকে ফাস্ট করার পরিবর্তে উল্টা কম্পিউটারকে স্লো করে ফেলে। যে কারনে ইউটিলিটি সফটওয়্যারগুলো এক্সপার্টদের কম্পিউটার হতে বিতাড়িতই বলা চলে। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, এক্সপার্টরা তাহলে কী ব্যবহার করে? নাকি তাদের কম্পিউটার জঞ্জালে ভর্তি! কম্পিউটারকে ক্লিন রাখার জন্য প্রাথমিক লেভেলের ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে এক্সপার্ট পর্যন্ত সবাই যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে সেটা হলো বহুল ব্যবহৃত এবং সর্বজন প্রিয় CCleaner। কথায় আছে, ভালোর কোন শেষ। মানুষের কাঙ্খিত শেষ আশ্রয়স্থল হিসাবে আমরা যে বেহেস্তের কথা জানি সেখানেও কিন্তু আটটি পর্যায় আছে। যাহোক, কম্পিউটার ক্লিন করার জন্য আমরা যতো সফটওয়্যার দেখি তাদের মাঝে CCleaner এর কথা আমরা সবাই জানলেও অজ্ঞতার কারনে বাদ পড়ে গেছে CCleaner এর চেয়েও র*্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা nCleaner! যেটাতে আমরা অন্য যেকোন ক্লিনিং সফটওয়্যারের চেয়ে বেশি সুবিধা পাবো। তবে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন nCleaner সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
nCleaner – কম্পিউটার ক্লিন করার সর্বাধিক কার্যকর সফটওয়্যার
nCleaner সফটওয়্যারটির কার্যকারীতা এবং প্রায়োগিক ক্ষেত্র এতোটাই ব্যাপক যে এটা নিয়ে বিস্তারিত বলতে গেলে টিউনের শিরোনামের পাশে তৃতীয় বন্ধনির মাঝে টেরাটিউন কথাটি লিখে দিতে হবে। তবে কাজের ক্ষেত্র যতোটাই বিশাল হোক না কেন ব্যবহার পদ্ধতি কিন্তু একদম প্রাথমিক লেভেলের। তার মানে একটা বাচ্চা ছেলের মা’কেও যদি সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে বলা হয় তাহলে সে অনায়াসেই দক্ষতার সাথে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারবে। যাহোক, অহেতুক অনেক কথা বলে ফেলেছি এবার কাজের কথায় আসি। মানে চলুন জেনে আসি সফটওয়্যারটি দিয়ে কী কী কাজ করা যায়।

১. সিস্টেম এবং রেজিস্ট্রি ক্লিন করে পিসির পারমেন্স বৃদ্ধি

সফটওয়্যারটিতে রয়েছে সিস্টেম ক্লিনিং এর জন্য এডভান্স টুলস। এর ফলে ব্রাউজার, বিভিন্ন সফটওয়্যার এবং কম্পিউটারের অন্যন্য প্রোগ্রাম কর্তৃক তৈরী হওয়া অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো খুব সহজেই স্থায়ীভাবে ডিলেট হয়ে যায়। এছাড়াও কম্পিউটারের ইনভেলিট রেজিস্ট্রি ফাইল কিংবা ত্রুটিপূর্ণ রেজিস্ট্রি ফাইলগুলো ক্লিন করতেও সফটওয়্যারটির জুড়ি নেই। যেখানে এই কাজগুলো করতে আলাদা আলাদা সফটওয়্যারের প্রয়োজন হতো সেখানে এই একটি মাত্র সফটওয়্যারটিই সব কাজের জন্য যথেষ্ট।

২. জাঙ্ক ফাইল অপসারন করে

কম্পিউটারের জাঙ্ক ফাইল – ইনভেলিট শর্টকাট, খালি ফোল্ডার, জমা হওয়া টেমপোরারি ফাইল অপ্রয়োজনীয় ব্যাক আপ ফাইল ইত্যাদি নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে সেগুলো সিস্টেম থেকে স্থায়ীভাবে ডিলেট করে সিস্টেমকে করে তুলে দ্রুত গতির।

৩. কম্পিউটারের পারফরমেন্স বাড়াতে সিস্টেম সেটিংস এবং সার্ভিস মডিফিকেশন

একজন সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সিস্টেমের সব প্রোগ্রাম ব্যবহার করার দরকার হয় না। কিন্তু ব্যবহারকারীদের দরকার হোক বা না হোক সার্ভিসগুলো কিন্তু ঠিকই পিসিতে চলে। কম্পিউটারের পারফরমেন্স বাড়াতে আপনি অপ্রয়োজনীয় সেটিংস গুলো মডিফাই করে সিস্টেমকে আরও দ্রুতগতির করতে পারেন। স্পর্শকাতর প্রোগ্রামগুলো লিস্টে আনা হয়নি।

৪. বুট টাইম কমাতে স্টার্টআপ প্রোগ্রাম মোডিফিকেশন

অনেক এক্সপার্টগণ কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় কমাতে সব ধরনের স্টার্টআপ প্রোগ্রামকে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু এমন কিছু প্রোগ্রাম আছে সেগুলো কম্পিউটার স্টার্ট হওয়ামাত্রই চালু হওয়া দরকার। সেক্ষেত্রে কম্পিউটারকে নিরাপদে ব্যবহার করার জন্য এবং ইফেক্টিভ সিস্টেম স্টার্টআপের জন্য সফটওয়্যারটিতে রয়েছে এডভান্স স্টার্ট আপ ম্যানেজার। যার সাহায্যে আপনি স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যানেজ করে কম্পিউটারের স্টার্টআপ টাইম কমিয়ে ফেলতে পারবেন।

৫. সিস্টেম মনিটরিং এবং স্পেইস ফ্রি করতে

কম্পিউটারের সার্বক্ষণিক সিস্টেম মনিটরিং, র*্যাম এবং কম্পিউটারের স্পেইস ফ্রি করতে, অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এবং ম্যালওয়্যার থেকে সিস্টেম সুরক্ষিত রাখতে এতে রয়েছে আরও অত্যাধুনিক কিছু সুবিধা। সব মিলিয়ে কম্পিউটার থাকবে সুপার ক্লিন। তবে সফটওয়্যারটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করে সফটওয়্যারটির অফিশিয়াল সাইট ভিজিট করুন।

ডাউনলোড
সফটওয়্যারটির সংক্ষিপ্ত ফিচারগুলো তো আপনারা দেখলেন। এবার বলুন এর চেয়ে কম সুবিধা সম্পন্ন CCleaner যদি এতো দামী সফটওয়্যার হয় তাহলে এটি আরও কতো দামী হবে? আর এর সাইজ কতো বিশাল হবে? আপনার কল্পনা যেখানেই যাক না কেন আপনাদের আজ অবাক হওয়ার পালা। কারন এতো সুবিধা সম্পন্ন এই সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ ফ্রি। আর সাইজ মাত্র 0.87MB। এতো ছোট সাইজের একটি সফটওয়্যারের এতো বিশাল কাজ দেখে আপনারা নিশ্চয় ডাউনলোড করার লোভ সামলাতে পারছেন না? তাহলে আর দেরি না করে নিচের ডাউনলোড লিংক থেকে এখনি ঝটপট অসাধারন এই সফটওয়্যারটি নামিয়ে নিন।

ডাউনলোড শেষ করে থাকলে শুধু ডাবল ক্লিক করে ইনস্টল করে নিন। এতে লুকানো কোন এডওয়্যার নাই। তাই চোখ বন্ধ করে শুধু নেক্সট নেক্সট আর নেক্সট চেপে ইনস্টল করে নিলেই সফটওয়্যারটি আপনাকে তার সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত হয়ে যাবে। তবে আর বাকি থাকলো কী?

মুহতারাম টেকনিশিয়ান ভাইদের কাছে এই মন্তব্য কামনা করছি।

 

ইন্টারনেট এ অনেক ভাল ভাল ইউটিলিটি সফটওয়্যার পাওয়া যায় ।
প্রত্যেকটি ইউটিলিটি সফটওয়্যার এর নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
CCleaner এবং nCleaner এর মত ভাল দুটি ইউটিলিটি সফটওয়্যার হল।
privacy eraser pro
[www.cybertronsoft.com
bleachbit
http://bleachbit.sourceforge.net

Advertisements